ফাল্গুন অমাবস্যায় মহাসমারোহে কালীপুজো, খণ্ডঘোষে ‘মাঠের কালী’ ঘিরে ভক্তদের ঢল

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে ফাল্গুন অমাবস্যায় অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী ‘মাঠের কালী’ পুজো। প্রাচীন বটতলায় রক্ষাকালীর আরাধনা ও মেলায় ভক্তদের ঢল।

ফাল্গুন মাসের অমাবস্যা তিথিতে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে আবারও ধ্বনিত হল ঢাকের বাদ্য। প্রাচীন বটগাছে ঘেরা বিস্তীর্ণ মাঠে অনুষ্ঠিত হল ‘মাঠের কালী’ পুজো। বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রক্ষাকালীর আরাধনা আজও গ্রামবাংলার বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

দক্ষিণ দামোদরের তীরে ঐতিহ্যের উৎসব

Khandaghosh অঞ্চলে প্রতি বছর ফাল্গুন অমাবস্যায় আয়োজিত হয় এই বিশেষ কালীপুজো। গ্রামের পূর্ব প্রান্তের মাঠে ভোর থেকেই ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুজো প্রাঙ্গণ। পুজো উপলক্ষে বসে বড় মেলাও, যা স্থানীয়দের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

বটতলার আটচালায় রক্ষাকালীর আরাধনা

গ্রাম ঢোকার আগেই বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝে প্রাচীন বটগাছে ঘেরা আটচালায় অনুষ্ঠিত হয় পুজো। মাঠের মধ্যেই হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মাঠের কালী’ নামেই পরিচিত। একই নিয়ম ও আচার মেনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজো হয়ে আসছে।

মহামারী থেকে মুক্তির বিশ্বাস

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে এলাকায় ভয়াবহ মহামারী দেখা দিয়েছিল। তখন গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রক্ষাকালীর পুজো শুরু করেন। বিশ্বাস, দেবীর কৃপায় গ্রাম মহামারী থেকে মুক্তি পায়। সেই আস্থার ধারাবাহিকতাই আজও অটুট।

শোভাযাত্রা, ঢাক-কাঁসর আর উৎসবের আবহ

পুজোর দিন বিশেষ আচার অনুযায়ী প্রতিমার রঙ করা হয়। রায়পাড়া থেকে বোসপাড়া হয়ে শস্যক্ষেত্রের পাশ দিয়ে বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রায় প্রতিমা আনা হয় পুজোস্থলে। অলঙ্কারে সজ্জিত দেবীমূর্তি ও ঢাক-কাঁসরের আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

বিসর্জনে আবেগঘন মুহূর্ত

সারাদিনের আচার-অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যার আগেই কালীতলার পুকুরে প্রতিমার বিসর্জন হয়। ভক্তরা আগামী বছরের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা জানান। ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির মিলনে ‘মাঠের কালী’ পুজো আজও গ্রামীণ বাংলার এক জীবন্ত ইতিহাস।

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে ফাল্গুন অমাবস্যায় ঐতিহ্যবাহী ‘মাঠের কালী’ পুজো সম্পন্ন হল। প্রায় ৩০০–৪০০ বছরের পুরনো এই রক্ষাকালীর আরাধনা ঘিরে বসে মেলা, হয় শোভাযাত্রা ও বিশেষ আচার।

 

Leave a comment