পুজোর ছুটি মানেই দার্জিলিং, কালিম্পং বা গ্যাংটক—এমনটা কিন্তু নয়। পাহাড়ের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলির বাইরে একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে কালিম্পংয়ের বেশ কিছু অফবিট গ্রাম আপনাকে মুগ্ধ করতে পারে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ জঙ্গল, চা-বাগান, পাহাড়ি হ্রদ এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দারুণ দৃশ্য—সব মিলিয়ে এবারের পুজোয় অন্যরকম ভ্রমণের স্বাদ পেতে পারেন এই পাঁচ জায়গায়।
চরখোলে—কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে সূর্যোদয়ের মায়া
শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন প্রকৃতির কাছে কাটাতে চাইলে চরখোলে হতে পারে দারুণ পছন্দ। ছোট্ট এই পাহাড়ি জনপদ ঘিরে রয়েছে পাইন, ওক এবং রডোডেনড্রনের জঙ্গল। চারপাশের সবুজ আর পাহাড়ি নির্জনতা মনকে সহজেই শান্ত করে দিতে পারে।তবে চরখোলের অন্যতম আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য। পরিষ্কার আবহাওয়ায় এখান থেকে পাহাড়ের বিস্তৃত প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যায়। ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে এই সফরের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
নকদাড়া—পাইন বনের মাঝে শান্ত পাহাড়ি হ্রদ
কালিম্পংয়ের পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা নকদাড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় একটি জায়গা। এখানকার অন্যতম বিশেষত্ব পাইন বনে ঘেরা শান্ত পাহাড়ি হ্রদ।হ্রদের স্বচ্ছ জলে প্যাডেল বোট এবং চারপাশের সবুজ পাহাড়ের প্রতিবিম্ব মিলে তৈরি করে মনোরম পরিবেশ। পুজোর মরশুমে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে পরিবারের সঙ্গে বা কাছের মানুষদের নিয়ে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য নকদাড়া বেছে নিতে পারেন।
সামথার—কুয়াশা, সবুজ আর চা-বাগানের পাহাড়ি ঠিকানা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সামথারকে ঘিরে রয়েছে পাহাড়ি প্রকৃতির এক অন্যরকম আবহ। কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি খাদ, বিস্তীর্ণ সবুজ আর চা-বাগানের দৃশ্য এই জায়গার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, স্থানীয় সংস্কৃতির কাছাকাছি থেকেও সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে এখানে। লেপচা সম্প্রদায়ের আতিথেয়তা উপভোগ করতে চাইলে হোমস্টেতে থাকার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। যারা ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে শান্ত পাহাড়ের পরিবেশ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সামথার হতে পারে উপযুক্ত গন্তব্য।
পাবিং—মেঘ-রোদ্দুরের খেলায় মুগ্ধ করবে পাহাড়ি গ্রাম
কালিম্পংয়ের পরিচিত পর্যটন মানচিত্রের বাইরে থাকা পাবিং এখনও অনেকটাই শান্ত ও নিরিবিলি। এলাচের খেত, কমলার বাগান এবং স্থানীয় চাষাবাদের পরিবেশ এই গ্রামকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।পাহাড়ের সবুজের মাঝে কাঠের বারান্দায় বসে এক কাপ গরম চা হাতে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি দেখার অভিজ্ঞতা হতে পারে অসাধারণ। বিশেষ করে প্রিয়জনের সঙ্গে ধীরেসুস্থে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পাবিংয়ের শান্ত পরিবেশ মন জয় করতে পারে।
মুনসং—সিঙ্কোনা বাগান আর তিস্তার দারুণ দৃশ্য
সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশনের জন্য পরিচিত মুনসং এখনও অনেকটাই নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশ ধরে রেখেছে। পাহাড়ের ঢালে সাজানো সিঙ্কোনা বাগান, শীতল বাতাস এবং পুরনো আমলের বাংলোর আবহ এই জায়গার বিশেষ আকর্ষণ।এখান থেকে আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা তিস্তা নদীর দৃশ্যও নজর কাড়ে। পাহাড়ের সবুজের সঙ্গে নদীর নীলাভ রেখা মিলিয়ে তৈরি হয় অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রকৃতির মাঝে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটিয়ে শহুরে ক্লান্তি ভুলতে চাইলে মুনসংও হতে পারে পুজোর ছুটির তালিকায়।
পুজোয় পাহাড়ের ডাক শুনলে এবার একটু অন্যরকম হোক সফর
পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে শুধুমাত্র পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যেই নিজেকে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। কালিম্পংয়ের এই অফবিট গন্তব্যগুলি আপনাকে দিতে পারে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ।কখনও কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়, কখনও পাহাড়ি হ্রদের জলে সবুজের প্রতিবিম্ব, আবার কখনও চা-বাগান কিংবা সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশনের সৌন্দর্য—প্রতিটি জায়গার রয়েছে নিজস্ব আকর্ষণ। তাই এবারের পুজোয় ভিড়ের পাহাড় নয়, মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরির মাঝে হারিয়ে যেতে চাইলে কালিম্পংয়ের এই পাঁচ অফবিট ঠিকানা তালিকায় রাখতেই পারেন।
পুজোর ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি পাহাড়ে কয়েকটা দিন কাটাতে চান? তাহলে কালিম্পংয়ের চরখোলে, নকদাড়া, সামথার, পাবিং ও মুনসং হতে পারে আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশন। কোথাও কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য, কোথাও পাহাড়ি হ্রদ, আবার কোথাও সিঙ্কোনা বাগান











