রাতের বেলা যত্ন করে দই পাতলেন, কিন্তু সকালে ঢাকনা খুলতেই টক গন্ধ! কখনও আবার দইয়ের উপর জল জমে যায়, কখনও স্বাদও বদলে যায়। গরমের মরশুমে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে। তাই শুধু দই পাতলেই হবে না, জমে যাওয়ার পর কীভাবে সেটি সংরক্ষণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দই দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখতে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল মেনে চলতে পারেন।
দইয়ের পাত্রে রাখুন শুকনো নারকেলের টুকরো
দই দ্রুত টক হয়ে যাওয়া ঠেকাতে বহুদিন ধরে একটি ঘরোয়া পদ্ধতির কথা প্রচলিত রয়েছে। দইয়ের পাত্রে ছোট এক টুকরো শুকনো নারকেল রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়। অনেক বাড়িতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।তবে এটি একটি প্রচলিত ঘরোয়া টোটকা—দইকে দিনের পর দিন টাটকা রাখার নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে এটিকে ধরা উচিত নয়। দই ভালো রাখতে সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।
দই জমে গেলেই ফ্রিজে রাখুন
দই জমাট বাঁধার পর ঘরের তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রেখে দিলে ফার্মেন্টেশন চলতে থাকে। গরমের সময় এই প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে। ফলে দইয়ের স্বাদ ক্রমশ টক হয়ে যেতে পারে।তাই দই ঠিকমতো জমে গেলেই সেটি ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন। যত দ্রুত ঠান্ডা পরিবেশে রাখা যাবে, অতিরিক্ত টক হওয়ার সম্ভাবনাও ততটাই কমবে।
ফ্রিজে দই কোথায় রাখবেন?
দই বারবার ফ্রিজ থেকে বের করে বাইরে রাখা এবং আবার ঢুকিয়ে দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। তাপমাত্রার ওঠানামা দইয়ের গুণমানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।ফ্রিজের এমন জায়গায় দই রাখুন যেখানে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে। একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে অপ্রয়োজনে বারবার দই বাইরে বের করবেন না।
দই জমানোর জন্য পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন
দই পাতার ক্ষেত্রে পাত্র পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাচের পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। পাত্রে কোনও পুরনো খাবারের অবশিষ্টাংশ বা ময়লা থাকলে দই দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।দই জমে যাওয়ার পর পাত্রটি ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন।
দইয়ের পাত্র সবসময় ঢেকে রাখুন
ফ্রিজে দই রাখার সময় পাত্র খোলা রাখবেন না। এতে দইয়ের উপরিভাগ শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজের অন্য খাবারের গন্ধও দইয়ে মিশে যেতে পারে।তাই দইয়ের জন্য ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন। এতে দই সংরক্ষণ করা সহজ হবে এবং বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শও কমবে।
নতুন দই পাততে খুব টক দই ব্যবহার করবেন না
আগের দই থেকে একটু অংশ নিয়ে নতুন দই পাতার চল বহু পুরনো। কিন্তু সেই স্টার্টার দই যদি অত্যন্ত টক হয়ে যায়, তাহলে নতুন দইয়ের স্বাদেও তার প্রভাব পড়তে পারে।তাই নতুন দই পাতার সময় তুলনামূলক টাটকা ও স্বাভাবিক স্বাদের দই ব্যবহার করা ভালো। খুব পুরনো বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত দই স্টার্টার হিসেবে ব্যবহার না করাই উচিত।
দই ইতিমধ্যেই টক হয়ে গেলে?
দইয়ে সামান্য টকভাব দেখা দিলে অনেকেই ঠান্ডা জ্বাল দেওয়া দুধ অল্প পরিমাণে মিশিয়ে স্বাদ কিছুটা ভারসাম্য করার ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তবে এতে দইয়ের টকভাব পুরোপুরি চলে যায় বা নষ্ট দই নিরাপদ হয়ে যায়—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।দইয়ে যদি অস্বাভাবিক গন্ধ, ছাঁচ, অদ্ভুত রং বা নষ্ট হওয়ার অন্য কোনও লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।
দই ভালো রাখার সহজ নিয়ম
দই টাটকা রাখতে কোনও একটি ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে মেনে চলুন। পরিষ্কার পাত্রে দই পাতুন, ভালো মানের স্টার্টার ব্যবহার করুন, দই জমে গেলেই ফ্রিজে রাখুন এবং পাত্রটি ঢেকে রাখুন।গরমের দিনে এই নিয়মগুলি মেনে চললে দই অতিরিক্ত দ্রুত টক হয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যেতে পারে।
বাড়িতে দই পাতার পর দ্রুত টক হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমবেশি অনেকেরই রয়েছে। বিশেষ করে গরমে দই জমার পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে ফার্মেন্টেশন দ্রুত হতে পারে। তবে দই সংরক্ষণের কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে অতিরিক্ত টকভাব এড়ানো সম্ভব। প্রচলিত ঘরোয়া টোটকা হিসেবে দইয়ের পাত্রে ছোট এক টুকরো শুকনো নারকেল রাখার কথাও বলা হয়।













