কানপুর অবৈধ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট র্যাকেট তদন্তে দালালের ৫০টি কেস ও প্রতি কেসে ৫০ হাজার টাকা কমিশনের দাবি

কানপুরে অবৈধ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট র্যাকেট তদন্তে কথিত এক দালালের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৫০টি ট্রান্সপ্লান্ট ও প্রতি কেসে ৫০ হাজার টাকা কমিশনের বিষয়টি সামনে এসেছে, যার পর পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
কানপুর অবৈধ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট র্যাকেট তদন্তে দালালের ৫০টি কেস ও প্রতি কেসে ৫০ হাজার টাকা কমিশনের দাবি
Photo Credit / Attribution: google

কানপুরে অবৈধ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট র্যাকেট সংক্রান্ত এক দাবির পর পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর তদন্ত জোরদার করেছে, যেখানে কথিত এক দালাল প্রায় ৫০টি ট্রান্সপ্লান্টে জড়িত থাকার দাবি করেছে।

এই মামলায় কথিত দালাল শিবম দাবি করেছে যে সে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার টাকা কমিশন পেত। এই দাবি সামনে আসার পর পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরে তৎপরতা বাড়ে, কারণ বিষয়টি একটি বড় সংগঠিত চক্রের ইঙ্গিত দেয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিবম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করত, যারা অর্থের প্রলোভন বা বাধ্যতায় কিডনি বিক্রি করতে রাজি হতো। এরপর সে রোগী ও হাসপাতালের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কে ভুয়া নথি ব্যবহার করে ডোনার ও রিসিভারকে আত্মীয় হিসেবে দেখানো হতো, যাতে আইনগত প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করা যায়। এইভাবে অবৈধভাবে ট্রান্সপ্লান্ট করা হতো এবং এতে একাধিক স্তরে লোকজনের জড়িত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তদন্তের সময় শিবম জিজ্ঞাসাবাদে দিল্লির একটি বড় হাসপাতালের নামও উল্লেখ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা ভূমিকা স্পষ্ট হয়নি। এই তথ্য সামনে আসার পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি রাজধানীর বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলির দিকেও নজর বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশ এখন সেই সব হাসপাতালের রেকর্ড পরীক্ষা করছে, যেখানে সন্দেহজনক ট্রান্সপ্লান্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে, যেখানে কেবল নিকট আত্মীয় বা বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে অঙ্গদান সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে দালালের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে ট্রান্সপ্লান্টের অভিযোগ আইন লঙ্ঘনের গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে।

পুলিশ এখন এই নেটওয়ার্কের সমস্ত সংযোগ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। এতে কতজন জড়িত, কোন কোন হাসপাতালে ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে এবং কতজন রোগী ও ডোনর এতে যুক্ত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, চিকিৎসক বা হাসপাতাল প্রশাসনের কোনও ভূমিকা ছিল কি না তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই ঘটনা দেশে চলমান অবৈধ অঙ্গ পাচার চক্রের বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে, যেখানে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের দিকে এগোচ্ছে।

Leave a comment