উৎসবের আনন্দের প্রস্তুতি নিতে গিয়েই প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়তে বসেছিলেন এক ব্যক্তি। শনিবার বিকেলে কসবার ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়ায় বাড়ির ভিতরে তুবড়ি বানানোর সময় আচমকা বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আহত হন অভিযুক্ত নিজেই, বিপদের মুখে পড়েন প্রতিবেশীরাও।
আচমকা বিকট শব্দে আতঙ্ক
শনিবার বিকেলে বিশ্বাসপাড়ায় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রথমে অনেকেই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কা করেছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কসবা থানার পুলিশ এবং বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়।
তুবড়ি তৈরির সময়ই বিপত্তি
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রঞ্জিত মণ্ডল বাড়ির ভিতরেই তুবড়ি তৈরির কাজ করছিলেন। বাজির মশলার ‘ফর্মুলা’য় গলদ থাকায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় রঞ্জিতের হাত গুরুতরভাবে ঝলসে যায়।
বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগ
পুলিশ জানিয়েছে, রঞ্জিতের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাজি ও বিস্ফোরক সামগ্রী তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁকে আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের নথি আদালতে জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ইউটিউব সূত্র
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় রঞ্জিতের একটি ছোট দোকান রয়েছে। পাশাপাশি অর্ডার পেলে বাড়িতে বসেই তুবড়ি বানাতেন তিনি। প্রতিবেশীদের দাবি, ইউটিউব দেখে বাজি তৈরির কৌশল শিখছিলেন রঞ্জিত। বিস্ফোরণের জেরে বাড়ির জানলার একাংশ ভেঙে যায়।
ফরেন্সিক তদন্ত শুরু
ঘটনার পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বাজির খোল, বিস্ফোরক মশলা, বারুদ ও বিভিন্ন কেমিক্যালের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর আহত অবস্থাতেই রঞ্জিত বাজির মশলা পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কলকাতার কসবার বিশ্বাসপাড়ায় বাড়িতে বসে তুবড়ি বানাতে গিয়ে ঘটে গেল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি অভিযুক্ত রঞ্জিত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।










