Puja Travel: পুজোর ছুটিতে যদি পাহাড়-সমুদ্রের বদলে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে চান, তাহলে আপনার ভ্রমণ তালিকায় জায়গা পেতেই পারে মুর্শিদাবাদ। হাজারদুয়ারী, ইমামবাড়া ঘোরার পাশাপাশি দেখে নিতে পারেন কয়েকশো বছরের পুরনো কাটরা মসজিদ। লাল ইটের অপূর্ব স্থাপত্য, উঁচু বুরুজ এবং নবাব মুর্শিদকুলি খানের সমাধির গল্প এই জায়গাকে করে তুলেছে আরও বিশেষ।
হাজারদুয়ারীর পাশাপাশি কাটরা মসজিদ কেন?
মুর্শিদাবাদ মানেই বাংলার নবাবি ইতিহাস। সিরাজউদ্দৌলা, মীর জাফর, ঘষেটি বেগম থেকে শুরু করে নবাবি আমলের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই শহর। সেই ইতিহাসেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কাটরা মসজিদ।মুর্শিদাবাদ রেলস্টেশন থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য। ফলে মুর্শিদাবাদে স্বল্প সময়ের সফরেও জায়গাটি ঘুরে দেখা সম্ভব।
প্রবেশপথেই চোখ আটকে যাবে লাল ইটের স্থাপত্যে
কাটরা মসজিদের মূল প্রবেশদ্বারে পৌঁছতেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা পরিবেশ। দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু বুরুজ যেন দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়।
লাল ইটের বিশাল স্থাপত্যটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে। ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকদের পাশাপাশি স্থাপত্যের সৌন্দর্য দেখতে আসা মানুষদের কাছেও এই জায়গার আকর্ষণ আলাদা।
মসজিদের নিচেই নবাবের সমাধি
কাটরা মসজিদের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম মুর্শিদকুলি খানের সমাধি। মসজিদের প্রবেশ বেদীর নিচে একটি ছোট ঘরে রয়েছে তাঁর কবর।প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, নিজের জীবনের ভুল ও পাপকর্মের জন্য নবাব অনুতপ্ত ছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, এমন জায়গায় তাঁকে সমাহিত করা হোক, যেখানে মসজিদে প্রবেশকারী ধর্মপ্রাণ মানুষের পায়ের স্পর্শ তাঁর কবরের উপর পড়ে। সেই ইচ্ছা অনুযায়ীই তাঁর সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
১৭১৭ সালে রাজধানী মুর্শিদাবাদে
মুর্শিদকুলি খান ১৭১৭ সালে রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। তাঁর নাম থেকেই নতুন রাজধানীর নাম হয় মুর্শিদাবাদ।‘কাটরা’ শব্দের অর্থ বাজার। নতুন রাজধানীর জামে মসজিদ হিসেবেই কাটরা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়। মসজিদ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নবাবের বিশ্বস্ত কারিগর মুরাদ ফরাস খানকে।
পাঁচ গম্বুজ আর ৭০ ফুটের বুরুজ
কাটরা মসজিদের স্থাপত্যশৈলীও পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ। চতুর্ভুজাকৃতির এই মসজিদের সামনে রয়েছে পাঁচটি প্রবেশ খিলান। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে দেখা যায় পাঁচটি গম্বুজ।চার কোণে রয়েছে চারটি বুরুজ। সিঁড়ি দিয়ে বুরুজের উপর পর্যন্ত ওঠার ব্যবস্থাও রয়েছে। সামনের বুরুজগুলির উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট এবং চওড়া প্রায় ২০ ফুট।
ভূমিকম্পের ক্ষত আজও বহন করছে স্থাপত্য
সময় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছাপ কাটরা মসজিদের গায়েও স্পষ্ট। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদের মিনারের গম্বুজগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়।মিনারগুলির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল সেখানে বন্দুক রাখার জন্য বিশেষ গর্তের উপস্থিতি। ফলে ধর্মীয় স্থাপত্যের পাশাপাশি তৎকালীন নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থারও কিছু ইঙ্গিত মেলে এই নির্মাণে।
কাছেই রয়েছে আরও ঐতিহাসিক স্থাপত্য
কাটরা মসজিদের পিছন দিকে রয়েছে মুর্শিদকুলি খানের সমাধি। আশপাশের এলাকায় নবাবি আমলের আরও নানা নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। কাছেই রয়েছে বড়া ইমামবাড়া, যা মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।তাই পুজোর ছুটিতে মুর্শিদাবাদ গেলে শুধু পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরেই ফিরে না এসে কাটরা মসজিদেও কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে।
পুজোর ছুটিতে মুর্শিদাবাদ বেড়াতে গেলে হাজারদুয়ারীর পাশাপাশি অবশ্যই ঘুরে দেখতে পারেন ঐতিহাসিক কাটরা মসজিদ। মুর্শিদকুলি খানের তৈরি এই স্থাপত্যে রয়েছে পাঁচটি প্রবেশ খিলান, পাঁচটি গম্বুজ, চারটি বুরুজ এবং প্রায় ৭০ ফুট উঁচু মিনার। মসজিদের প্রবেশপথের নিচে থাকা নবাবের সমাধির ইতিহাসও এই জায়গাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।












