কৌশিকী অমাবস্যা এলেই তারাপীঠে ভক্তদের ঢল নামে। তবে প্রত্যেকের পক্ষে এই বিশেষ তিথিতে মন্দিরে গিয়ে পুজো করা সম্ভব হয় না। সময়ের অভাব, শারীরিক অসুবিধা বা অন্য কারণে তারাপীঠ যেতে না পারলেও বাড়িতে থেকেই ভক্তিভরে আরাধনা করা যেতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে জাঁকজমকের চেয়ে নিষ্ঠা ও একাগ্রতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে বাড়িতে কৌশিকী অমাবস্যার পুজো করবেন, জেনে নিন।
পুজোর আগে কী করবেন?
পুরোহিতের পরামর্শ অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার দিনে নিরামিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। পুজোর আগে শরীর সঙ্গ দিলে স্নান করে পরিষ্কার বা শুদ্ধ পোশাক পরা যেতে পারে।এর উদ্দেশ্য মূলত পুজোর আগে নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। তবে শারীরিক অসুবিধা থাকলে কোনও নিয়ম পালন করতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
মা তারা বা মা কালীর সামনে প্রদীপ জ্বালান
বাড়িতে মা তারা বা মা কালীর ছবি কিংবা মূর্তি থাকলে তার সামনে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে প্রদীপ জ্বালাতে পারেন। চণ্ডীচরণ হালদারের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘিয়ের প্রদীপের পাশাপাশি ধূপও জ্বালানো যেতে পারে।এরপর ভক্তি অনুযায়ী লাল ফুল বা জবার মালা নিবেদন করুন। পুজোর জন্য অত্যন্ত দামি উপকরণ প্রয়োজন নেই—নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফল, মিষ্টি বা সামান্য ভোগ নিবেদন করলেই হয়।
ধূপ-প্রদীপে করুন আরতি, তারপর নামজপ
পুজোর পর ধূপ, প্রদীপ ও কর্পূর দিয়ে আরতি করার রীতি রয়েছে। আরতির শেষে কিছুক্ষণ শান্তভাবে বসে মা তারা বা মা কালীর নামজপ করতে পারেন।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যায় মনকে স্থির রেখে নিজের ইচ্ছা ও প্রার্থনার কথা দেবীর কাছে নিবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুজোয় আড়ম্বরের বদলে ভক্তি ও একাগ্রতার উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দান করতে পারেন অন্ন-বস্ত্র
কৌশিকী অমাবস্যায় দান করারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে ধর্মীয় পরম্পরায় মনে করা হয়। দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্ন বা বস্ত্র দান করা যেতে পারে।এটি শুধু ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবেই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যায়।
এদিন কী এড়িয়ে চলবেন?
এই বিশেষ তিথিতে অকারণে রাগ, ঝগড়া বা বিবাদে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও খারাপ অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে ছাড়ার সংকল্পও করা যেতে পারে।অর্থাৎ কৌশিকী অমাবস্যার আরাধনাকে শুধু পুজোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের আচরণ ও মানসিকতার উন্নতির দিন হিসেবেও নেওয়া যায়।
সংসারে অর্থাভাব দূর হবে? কী বলছে ধর্মীয় বিশ্বাস
কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে আর্থিক সমস্যা দূর হওয়া বা সংসারে সমৃদ্ধি আসা নিয়ে নানা লোকাচার ও ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। তবে এগুলিকে নিশ্চিত ফল পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।পুরোহিতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই দিনে ভক্তি, নামজপ, প্রার্থনা, দান এবং সংযমের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই অর্থলাভের নিশ্চয়তা পাওয়ার কোনও ‘টোটকা’ হিসেবে না দেখে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার হিসেবেই এই নিয়মগুলি পালন করা শ্রেয়।
তারাপীঠে যাওয়া কি বাধ্যতামূলক?
না। সময় বা শারীরিক পরিস্থিতির কারণে তারাপীঠে যেতে না পারলে বাড়িতেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মা তারা বা মা কালীর আরাধনা করা যেতে পারে বলে পুরোহিতের পরামর্শ।বিশেষ করে পুজোর ক্ষেত্রে জাঁকজমকের চেয়ে ভক্তি, মনোযোগ এবং একাগ্রতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যা হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি। তারাপীঠে গিয়ে পুজো করা সম্ভব না হলেও বাড়িতে ভক্তিভরে মা তারা বা মা কালীর আরাধনা করা যায় বলে জানিয়েছেন বঙ্গীয় পুরোহিত সভার সভাপতি চণ্ডীচরণ হালদার। নিরামিষ আহার, শুদ্ধবস্ত্র, প্রদীপ-ধূপ জ্বালানো, লাল ফুল নিবেদন, নামজপ ও দানের মতো কয়েকটি নিয়ম মেনে ঘরেই পুজো করা যেতে পারে।









