বর্ষার দিনে পোশাকে কাদা লাগা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। সমস্যা আরও বাড়ে যখন সেই কাদা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে ভুলভাবে ঘষলে দাগ আরও ছড়িয়ে যেতে পারে বা কাপড়ের তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কাদার দাগ পরিষ্কারের সময় ধাপে ধাপে এগোনো জরুরি। বাড়িতে থাকা বেকিং সোডা, লেবুর রস, সাদা ভিনিগার এবং ডিটারজেন্ট কাজে লাগিয়ে কীভাবে পোশাক পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন।
আগে কাদা পুরোপুরি শুকোতে দিন
কাপড়ে কাদা লাগার পর সঙ্গে সঙ্গে জলে ভিজিয়ে ফেললে অনেক সময় মাটি কাপড়ের তন্তুর মধ্যে আরও ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে কাদা শুকিয়ে নেওয়াই ভালো।শুকিয়ে গেলে নরম ব্রাশ বা পুরনো নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঝেড়ে ফেলুন। জোরে ঘষবেন না। এতে শুকনো কাদার বড় অংশ প্রথমেই উঠে যাবে এবং পরের ধাপগুলি সহজ হবে।
ঠান্ডা জল দিয়ে দাগটি ধুয়ে নিন
শুকনো কাদা ঝেড়ে ফেলার পর দাগের পিছন দিক থেকে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। এতে আলগা ময়লা বেরিয়ে আসবে।কাদার দাগের ক্ষেত্রে শুরুতেই অত্যন্ত গরম জল ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে দাগের সঙ্গে অন্য কোনও উপাদান মিশে থাকলে তাপের প্রভাবে সেটি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। পোশাকের লেবেলে দেওয়া ধোয়ার নির্দেশ অবশ্যই মেনে চলুন।
বেকিং সোডার পেস্ট কাজে লাগান
দাগটি যদি থেকে যায়, এক চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে পারেন। দাগের জায়গায় পেস্টটি লাগিয়ে প্রায় ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুব জোরে ঘষার বদলে আলতোভাবে পরিষ্কার করাই ভালো।
লেবুর রস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড কিছু ধরনের দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। দাগের উপর অল্প লেবুর রস ব্যবহার করে কিছুক্ষণ রেখে তারপর জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।তবে লেবুর রস সব ধরনের কাপড়ের জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে রঙিন বা সংবেদনশীল কাপড়ে ব্যবহার করার আগে পোশাকের আড়াল থাকা ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। সরাসরি রোদে লেবুর রস লাগানো কাপড় শুকোতে দেওয়াও এড়ানো ভালো, কারণ কিছু কাপড়ের রং ফিকে হয়ে যেতে পারে।
সাদা ভিনিগারেও মিলতে পারে সাহায্য
দাগ এবং দুর্গন্ধ থেকে গেলে এক কাপ জলে ২ টেবিল চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে পাতলা দ্রবণ তৈরি করা যায়। এটি দাগের জায়গায় অল্প পরিমাণে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর জল দিয়ে ধুয়ে নিন।ভিনিগার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগে কাপড়ের লুকনো অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। ভিনিগার কখনও ব্লিচের সঙ্গে মেশাবেন না। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে।
শেষে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন
ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে দাগ পরিষ্কার করার পর পোশাকটি উপযুক্ত ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। কাপড়ের ধরন অনুযায়ী হাতে ধোয়া অথবা ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে।দাগ পুরোপুরি ওঠার আগে পোশাকটি উচ্চ তাপে শুকানো বা ইস্ত্রি না করাই ভালো। তাপ দাগকে আরও স্থায়ী করে দিতে পারে। ধোয়ার পরও দাগ থাকলে একই পদ্ধতি প্রয়োজন অনুযায়ী আবার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সিল্ক-উলের পোশাকে বাড়িতে পরীক্ষা নয়
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কাপড়ের ধরন বুঝে পদ্ধতি বেছে নেওয়া। সিল্ক, উল বা অত্যন্ত নাজুক কাপড়ে বেকিং সোডা, লেবু কিংবা ভিনিগারের মতো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করাই নিরাপদ।এই ধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে পরিচর্যার লেবেলের নির্দেশ মেনে চলুন এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার ড্রাই ক্লিনারের সাহায্য নিন।
বর্ষাকালে রাস্তায় বেরোলেই পোশাকে কাদা ছিটকে দাগ হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু, অফিসযাত্রী কিংবা বাইরে কাজ করা মানুষের পোশাকে এই দাগ বেশি দেখা যায়। তবে কাদার দাগ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। সঠিকভাবে শুকনো কাদা সরানো, ঠান্ডা জল ব্যবহার এবং কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যে অনেক ক্ষেত্রেই পোশাক পরিষ্কার করা সম্ভব।











