কেরালায় রহস্যমৃত্যু! কাস্টমস অফিসার ও পরিবারের পচাগলা দেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা নাকি ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ
সর্বশেষ আপডেট: 22-02-2025
কেরালার কাক্কানাদে সামনে এল এক মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হলেন কেন্দ্রীয় আবগারি ও কাস্টমস বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মনীশ বিজয় (৪৪), তার বোন শালিনী বিজয় (৩৫) এবং তাদের মা শকুন্তলা। পচাগলা দেহের গন্ধে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক পরিণতি? তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
৪ দিন ধরে নিখোঁজ, তারপরই বাড়ি থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ!

কয়েকদিন ধরে অফিসে যাচ্ছিলেন না মনীশ। ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে তার বাড়িতে গেলে দরজা বন্ধ পায়। এরপরই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ দরজা ভেঙে ঢুকে দেখে, এক ঘরে ঝুলছেন মনীশ ও তার বোন শালিনী, অন্যদিকে বিছানায় নিথর দেহ পড়ে রয়েছে মা শকুন্তলার।
আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? বাড়িতে কী মিলল পুলিশের হাতে?
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, শকুন্তলা আগেই মারা গিয়েছিলেন এবং পরে ভাই-বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ, শকুন্তলার দেহ কাপড়ে মোড়া ছিল এবং পাশে ফুল রাখা ছিল—যা শেষকৃত্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ষড়যন্ত্র, তা জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
ডায়েরির পাতায় লেখা ছিল মৃত্যুর পরিকল্পনার ইঙ্গিত?

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে, যেখানে পরিবারের আরেক বিদেশে থাকা সদস্যকে মৃত্যুর খবর জানানোর নির্দেশ লেখা ছিল। এটি থেকে ইঙ্গিত মিলছে, মৃত্যু স্বেচ্ছায় হলেও তা পূর্বপরিকল্পিত।
আগেও কি ছিল মানসিক চাপ? কী বলছে তদন্ত?
মনীশ বিজয় কিছুদিন আগেই কোঝিকোড় বিমানবন্দরে কাস্টমস প্রিভেন্টিভ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোচিতে বদলি হন এবং তার মা ও বোন সেখানে এসে থাকতে শুরু করেন। অন্যদিকে, শালিনী ঝাড়খণ্ডের একটি আইনি মামলায় জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে মনীশ বেশ চিন্তিত ছিলেন এবং ছুটিতে ছিলেন।
পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অজানা রহস্য? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই!
