বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রধান খালেদা জিয়ার অবস্থা ঢাকার একটি হাসপাতালে অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁকে এখন ভেন্টিলেটরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং হৃৎপিণ্ড–ফুসফুসের ওপর প্রভাবের কারণে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থা নিয়ে দেশ-বিদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্বেগ প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট শেয়ার করে বলেছেন যে, বাংলাদেশের জনজীবনে দীর্ঘকাল ধরে অবদান রাখা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন যে, ভারত তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এবং প্রয়োজন অনুসারে সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ভারতের এই বার্তাটিকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা
২৩ নভেম্বর ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের অভিযোগের পর খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (সিসিইউ)-তে রাখা হয়েছিল, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেটরে স্থানান্তর করতে হয়। হাসপাতালে স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর তদারকি করছে। ডাক্তারদের মতে, সংক্রমণের কারণে তাঁর হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের উপর গভীর প্রভাব পড়েছে, যা তাঁর অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা “অত্যন্ত গুরুতর” এবং ডাক্তাররা নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টারও উদ্বেগ প্রকাশ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তিনি সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থার খোঁজ নেন। এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত করে যে, বর্তমান প্রশাসনও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তিত।
বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি গুরুতর রোগে ভুগছেন। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনি-সম্পর্কিত জটিলতার মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই কারণেই তাঁর অবস্থা নিয়ে ডাক্তাররা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। এই বছর ৮ জানুয়ারি তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকে প্রায় ১৭ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে।
এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে তিনি তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ব্রিটেনে চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর তিনি ৬ মে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।








