চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোঁড়া—খেলার ছলেই শুরু হলেও এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। যাত্রীদের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে ট্রেনের বড় ক্ষতি—সব মিলিয়ে ক্রমেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে এই প্রবণতা। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত এক বছরে শুধু খড়্গপুর রেল ডিভিশনেই একাধিক ঘটনায় জড়িত বহু নাবালক ও কিশোর। ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে RPF।
পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় কতজন গ্রেফতার?
রেল সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দেশজুড়ে মোট ২৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলাগুলিতে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশঙ্কার বিষয়, ধৃতদের মধ্যে নাবালকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
RPF কী বলছে?
খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পাণ্ডা জানান,
“অনেক ক্ষেত্রেই বাচ্চারা না বুঝেই খেলার ছলে পাথর ছোঁড়ে। কিন্তু তদন্তের মাধ্যমে আমরা তাদের শনাক্ত করি। নাবালক হলে আদালতে অভিভাবকদের হাজির করে মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হয়।”
এই মুচলেকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে—ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তার দায় অভিভাবকদেরই নিতে হবে।
‘অপারেশন জন জাগরুকতা’ কী?
পাথর ছোঁড়ার ঘটনা রুখতে রেল চালু করেছে ‘অপারেশন জন জাগরুকতা’। এই কর্মসূচির আওতায়—
রেলকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনতা প্রচার করছেন
অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে
শিশু ও কিশোরদের বোঝানো হচ্ছে এর ভয়াবহ পরিণতি
প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি
শুধু সচেতনতা নয়, প্রযুক্তির দিকেও জোর দিচ্ছে রেল। খড়্গপুর ডিভিশনের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় বসানো হচ্ছে সৌরশক্তি চালিত ক্যামেরা (Solar Camera), যাতে রাতদিন নজরদারি আরও কড়া করা যায়।
পরিসংখ্যান বলছে কী?
রেলওয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—মাত্র ৬ মাসেই
সারা দেশে ১,৬৯৮টি পাথর ছোঁড়ার মামলা দায়ের হয়েছে
এই সংখ্যাই প্রমাণ করছে, সমস্যা কতটা গভীর।
চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে রেলমহলে। গত এক বছরে খড়্গপুর ডিভিশন সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনায় মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)। ধৃতদের মধ্যে নাবালকের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেতনতা অভিযান ও সোলার ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত রেলের।












