অভিনেত্রী কীর্তি কুলহারির ক্রেডিট কার্ডের অপব্যবহারে প্রায় ₹২.৪৪ লক্ষের অনলাইন প্রতারণা, তদন্তে মুম্বই পুলিশ

বলিউড অভিনেত্রী ও প্রযোজক কীর্তি কুলহারির ক্রেডিট কার্ডের তথ্যের অপব্যবহার করে প্রায় ₹২.৪৪ লক্ষ টাকার অনলাইন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। মুম্বই পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা ব্যাংকিং রেকর্ড, ট্রানজ্যাকশন লগ এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছেন।

বলিউড অভিনেত্রী ও প্রযোজক কীর্তি কুলহারি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইবার প্রতারকরা তাঁর ক্রেডিট কার্ডের তথ্যের অপব্যবহার করে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ₹২.৪৪ লক্ষ টাকার অনলাইন কেনাকাটা করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মুম্বই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সি কীর্তি কুলহারি ২৪ জুলাই রাতে মুম্বইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমের একটি মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর মোবাইল ফোনে একটি ব্যাংক সতর্কবার্তা আসে, যেখানে একটি বিদেশি লেনদেনের তথ্য জানানো হয়। বার্তায় উল্লেখ ছিল, তাঁর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অ্যারোমেক্সিকো এয়ারলাইন্স-সংক্রান্ত প্রায় ২,৫২৫ মার্কিন ডলারের একটি পেমেন্ট করা হয়েছে।

এই লেনদেনটি তাঁর জ্ঞান ও অনুমতি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কার্ডটি ব্যবহার করে একটি নয়, মোট চারটি পৃথক লেনদেন করা হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট পরিমাণ ₹২.৪৩ লক্ষের বেশি। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ডটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করে দেয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অননুমোদিত কার্যকলাপ না ঘটে। পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেন-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত রেকর্ডের বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিনেত্রী তাঁর কার্ডের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা অন্য কোনো গোপন ব্যাংকিং তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তিগত কোনো উপায়ে কার্ড-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিশিং ইমেল, ভুয়া ওয়েবসাইট, ডেটা ব্রিচ, ম্যালওয়্যার, কার্ড স্কিমিং অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে আর্থিক তথ্য চুরি করা হতে পারে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে আম্বোলি পুলিশ স্টেশনে অজ্ঞাত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ব্যাংকিং রেকর্ড, ট্রানজ্যাকশন লগ, আইপি অ্যাড্রেস, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা, এ ধরনের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাইবার নেটওয়ার্ক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে। সেই কারণে তদন্তকে শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বিস্তৃত ডিজিটাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

Leave a comment