ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথিত পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে অমিত শাহের অপসারণ দাবি রাহুল গান্ধীর

মিত শাহকে দায়ী করে তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সংসদে বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। এদিকে, পাবলিক এক্সামিনেশনস-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

कांग्रेस सांसद राहुल गांधी ने छात्रों पर पुलिस कार्रवाई को लेकर गृह मंत्री अमित शाह पर गंभीर आरोप लगाए। उन्होंने कहा कि संसद में उन्हें अपनी बात पूरी तरह रखने का अवसर नहीं दिया गया और प्रधानमंत्री से गृह मंत्री को पद से हटाने की मांग की।

কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। সংসদে তাঁকে সম্পূর্ণ বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করার পর তিনি এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, দিল্লিতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথিত পুলিশি পদক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দায়ী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান। এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সংসদের উভয় কক্ষেই পাবলিক এক্সামিনেশনস-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল (অ্যান্টি পেপার লিক বিল) পাস হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে তাঁকে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ছাত্রদের বিষয়টি উত্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বারবার বাধা দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে এবং পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কথিত আহত ছাত্রদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিও তিনি দেখেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি।

রাহুল গান্ধী বলেন, দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। এই ভিত্তিতে তিনি ঘটনাগুলির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথিত পদক্ষেপের নিরপেক্ষভাবে দায় নির্ধারণ করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদ থেকে অপসারণ করা উচিত। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশেই হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের সময় ছাত্রদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয়েছে এবং মহিলাদের বিরুদ্ধেও বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে এমন কিছু ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন যাঁদের গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না। তাঁর আশঙ্কা, তাঁরা রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তবে এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ পেশ করেননি এবং অভিযোগগুলির স্বাধীন নিশ্চিতকরণও হয়নি।

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী জানান, তিনি ২৫ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই চিঠিতে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথিত পদক্ষেপের বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এও রাহুল গান্ধী প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, সংসদে ছাত্রদের বিষয়টি উত্থাপন করার সময় তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সংসদে যে বিষয়গুলি তিনি বলতে পারেননি, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে আরও বলা হয়, কণ্ঠস্বরকে থামানো যেতে পারে, কিন্তু ছাত্রদের দাবিকে দমন করা যায় না।

লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের মত প্রকাশ করেছে।

রাহুল গান্ধীর মতে, ছাত্রদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগোচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ পড়ছে। তাঁর মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ানো নয়।

এদিকে, সংসদের উভয় কক্ষেই পাবলিক এক্সামিনেশনস-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সরকারের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই আইন আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং ছাত্রদের আস্থা পুনর্গঠনও সমানভাবে প্রয়োজন।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পর ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে বিরোধীরা সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করছে, অন্যদিকে সরকার পরীক্ষা সংস্কার এবং নতুন আইনি ব্যবস্থাকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে।

 

Leave a comment