রাজস্থানের বেহরোরে বিবাহিত মহিলার হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার, তিন দিনের পুলিশি হেফাজত

রাজস্থানের বেহরোরে এ তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়ে তদন্ত চলছে।

রাজস্থানের কোটপুতলি-বেহরোর জেলার বেহরোর এলাকায় এক বিবাহিত মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিবাদের জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের মৌ জেলার মধুবন এলাকার বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র সোনি তাঁর স্ত্রী দীপিকা বর্মার সঙ্গে বেহরোর টিচার্স কলোনিতে বসবাস করতেন। ধর্মেন্দ্র স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের একটি গ্লাস কোম্পানিতে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন, যার কারণে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ২৬ জুলাই রাতে তাঁদের মধ্যে ফের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ, অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করেন। ওই সময় দীপিকা ফোন করে তাঁর বাবাকে ঘটনার কথা জানান। পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে এরপর দুজনেরই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের দাবি, পরদিন সকালে বিরোধ আরও বাড়ে এবং তা সহিংস রূপ নেয়।

তদন্তে পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত প্রথমে মহিলাকে গুরুতরভাবে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহিলার মাথা দেয়ালে আঘাত লাগে, ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর তাঁর গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে, মৃতদেহটি সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মহিলার শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং গলা টিপে ধরার ইঙ্গিত পাওয়ার পর হত্যার সন্দেহ আরও জোরদার হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রাসঙ্গিক সব প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে বাড়িতেই পায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে হত্যার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যও বিশ্লেষণ করছে।

নিহত মহিলার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন এবং সেই কারণেই নিয়মিত বিবাদ হতো। তাঁদের দাবি, ঘটনার আগেও একাধিকবার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বয়ানও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র ও দীপিকার বিয়ে হয় ২০১৯ সালে। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। বিয়ের পর তাঁরা বেহরোরে বসবাস করছিলেন, যেখানে অভিযুক্ত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ এ-ও খতিয়ে দেখছে, এর আগে দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কি না বা পারিবারিক বিবাদের অন্য কোনো নথি রয়েছে কি না।

আদালত অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা এই সময়ে ঘটনার পূর্ণ ক্রম, অভিযোগিত হত্যার পদ্ধতি, ঘটনার পর অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড এবং উদ্ধার হওয়া ভৌত প্রমাণ নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। পাশাপাশি ফরেনসিক প্রতিবেদন, মোবাইল ফোনের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলছে এবং সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

Leave a comment