কলকাতা বিমানবন্দরে কাস্টমসের তল্লাশিতে সামনে এল বন্যপ্রাণী পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এক যাত্রীর লাগেজে লুকিয়ে রাখা ছিল এক-দুইটি নয়, একসঙ্গে ৭০৭টি জীবিত বিদেশি কচ্ছপ। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর সন্দেহ হওয়ায় ওই যাত্রীকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার প্রজাতির কচ্ছপগুলি। এত বিপুল সংখ্যক জীবিত কচ্ছপ কীভাবে কলকাতায় এল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

গ্রিন চ্যানেল পেরোতেই সন্দেহ, তারপরই ব্যাগে তল্লাশি
ঘটনাটি ঘটে বুধবার, ২২ জুলাই। জানা গিয়েছে, ইন্ডিগোর 6E-1058 বিমানে কলকাতায় পৌঁছেছিলেন এক ভারতীয় যাত্রী। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় তাঁর গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হয় কাস্টমসের এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের আধিকারিকদের। এরপরই তাঁকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ ও লাগেজ পরীক্ষা।চেক-ইন ব্যাগ খুলতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে। ভিতরে ছিল বিপুল সংখ্যক জীবিত কচ্ছপ। গণনা করে মোট ৭০৭টি রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার উদ্ধার করা হয়।
বৈধ নথি না থাকায় বাজেয়াপ্ত কচ্ছপ
কাস্টমস সূত্রের খবর, ওই যাত্রীর কাছে এতগুলি বিদেশি কচ্ছপ বহনের কোনও বৈধ অনুমতিপত্র বা প্রয়োজনীয় নথি ছিল না। ফলে নিয়ম অনুযায়ী কচ্ছপগুলিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।রেড-ইয়ার্ড স্লাইডারকে বিদেশি আক্রমণাত্মক প্রজাতি বা ‘Invasive Exotic Species’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ধরনের বিদেশি প্রাণী অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

কোন পথে এল এত কচ্ছপ? তদন্তে কাস্টমস ও WCCB
৭০৭টি কচ্ছপ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কীভাবে সেগুলি বিমানে করে কলকাতায় আনা হল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় কাস্টমসের পাশাপাশি ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো বা WCCB-র সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে কোনও বড়সড় বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ওই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারের সম্ভাব্য রুট এবং জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

একাধিক আইনে ব্যবস্থা
কাস্টমসের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাস্টমস আইন, ১৯৬২ এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন, ১৯৭২-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য সংক্রান্ত CITES-এর বিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কলকাতা কাস্টমসের প্রধান কমিশনার বিনায়ক আজাদ জানিয়েছেন, ভারতের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। যাত্রীদের প্রোফাইলিং, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি এবং WCCB-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে কাস্টমসের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর চেক-ইন ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল ৭০৭টি জীবিত রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ। বৈধ নথি ছাড়াই বিপুল সংখ্যক বিদেশি প্রজাতির কচ্ছপ নিয়ে যাতায়াতের অভিযোগে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে কাস্টমস। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস এবং ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB)।












