খাস কলকাতায় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন! প্রেমঘটিত অশান্তির জেরেই কি মৃত্যু?

খাস কলকাতায় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুন! প্রেমঘটিত অশান্তির জেরেই কি মৃত্যু?

কলকাতা: খাস কলকাতার বুকে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। নারকেলডাঙা থানা এলাকার একটি ফাঁকা বাড়িতে নিজের ঘরের বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তরুণীকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

গলায় দাগ, ময়নাতদন্তেই স্পষ্ট—শ্বাসরোধ করে খুন

মৃত তরুণীর নাম পুষ্পা কুমারী (২২)। তিনি নারকেলডাঙা থানা এলাকার শিবতলা লেনের বাসিন্দা। ১৪ জানুয়ারি দুপুরে তাঁর গলায় দাগ লক্ষ্য করা যায়। পরদিন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।

প্রতিবেশীর ফোনেই সামনে আসে রহস্য

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৪ তারিখ দুপুরে প্রতিবেশী কমল সিং ফোন করে পুষ্পার বাবা রাজ নারায়ণ শাহকে জানান, তাঁর মেয়ে ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে মেয়েকে উদ্ধার করে নীলরতন মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

অভিযোগ না থাকলেও পরে দায়ের মামলা

ঘটনার পর প্রথমে পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তবে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এক প্রতিবেশীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত হয়। এরপরই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের দিকেই তদন্ত শুরু করে।

 প্রেমঘটিত সম্পর্কের দিকেও নজর তদন্তকারীদের

তরুণীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কেউ ঘরে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা প্রেমঘটিত অশান্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পুষ্পার মোবাইল ফোন, শেষবার কাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকায় ফাঁকা বাড়িতে একা থাকা তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও, ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে শ্বাসরোধ করে খুনের তথ্য। প্রেমঘটিত সম্পর্কের জটিলতা থেকে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 

Leave a comment