কৃষক বন্ধু বনাম PM Kisan: বছরে কে কত টাকা পান? আবেদন, যোগ্যতা ও সুবিধার পার্থক্য একনজরে

কৃষক বন্ধু ও PM Kisan-এর মধ্যে পার্থক্য কী? বছরে কত টাকা, কত কিস্তিতে মেলে, কারা আবেদন করতে পারেন এবং কী কী সুবিধা রয়েছে—জেনে নিন বিস্তারিত।

কৃষিকাজের খরচ সামলাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা অনেক কৃষকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু এবং কেন্দ্রের PM Kisan প্রকল্প দু’টিই সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেয়। তবে একই ধরনের মনে হলেও এই দুই প্রকল্পের নিয়ম এক নয়। কোথায় কত টাকা পাওয়া যায়, কত কিস্তিতে টাকা আসে এবং কীভাবে আবেদন করবেন—জেনে নিন বিস্তারিত।

কৃষক বন্ধুতে বছরে কত টাকা?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে জমির পরিমাণের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এক একর বা তার বেশি জমি থাকা যোগ্য কৃষক বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। সাধারণত এই টাকা দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়।এক একরের কম জমি থাকলেও জমির পরিমাণ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে জমির পরিমাণের সঙ্গে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের প্রাপ্য অর্থের সম্পর্ক রয়েছে।

মৃত্যুকালীন সহায়তাও রয়েছে

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নথিভুক্ত কৃষকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

PM Kisan-এ বছরে ৬ হাজার টাকা

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি বা PM Kisan প্রকল্পে যোগ্য ভূমিমালিক কৃষক পরিবারকে বছরে মোট ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এই অর্থ একবারে দেওয়া হয় না। সাধারণত ২ হাজার টাকা করে তিনটি কিস্তিতে, চার মাস অন্তর কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হয়।

তবে PM Kisan-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধা পেতে e-KYC সম্পূর্ণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

দুই প্রকল্পের মূল পার্থক্য কোথায়?

দুই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও কাঠামোগতভাবে এগুলি আলাদা।

বিষয় কৃষক বন্ধু PM Kisan

পরিচালনাকারী পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকার

বার্ষিক সহায়তা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা ৬,০০০ টাকা

কিস্তি সাধারণত ২ কিস্তি ২,০০০ টাকা করে ৩ কিস্তি

জমির ভিত্তি জমির পরিমাণ অনুযায়ী যোগ্য ভূমিমালিক কৃষক পরিবার

অতিরিক্ত সুবিধা যোগ্য কৃষকের মৃত্যুতে ২ লক্ষ টাকা মূলত আয় সহায়তা

e-KYC প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ/প্রয়োজনীয়

কৃষক বন্ধুতে কীভাবে আবেদন করবেন?

কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করার জন্য অনলাইন পোর্টালের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা কৃষি দফতরের অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত জমির নথি, পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি লাগতে পারে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে বর্তমান নথির তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

PM Kisan-এর আবেদন পদ্ধতি

PM Kisan-এর জন্য অনলাইনে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের Farmer Corner থেকে নতুন কৃষক নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন করার সময় আধার, মোবাইল নম্বর, জমির নথি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।অনলাইন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে স্থানীয় কৃষি দফতর, Common Service Centre (CSC) বা অনুমোদিত পরিষেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও আবেদন করা যায়।

কার জন্য কোন প্রকল্প বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

একই কৃষক নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই ধরনের প্রকল্পের সুবিধাই পেতে পারেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বর্তমান নিয়ম ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করবে। তাই শুধুমাত্র প্রকল্পের নাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে জমির নথি, কৃষকের পরিচয়, e-KYC এবং অন্যান্য শর্ত মিলিয়ে দেখা জরুরি।

নতুন আবেদন নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

প্রদত্ত প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষের দিকে দুই প্রকল্পের সুবিধার জন্য নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। জনকল্যাণ শিবির এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।তবে আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে সেটিই অনুসরণ করা উচিত।

কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু এবং কেন্দ্রের PM Kisan Samman Nidhi—দুই প্রকল্পই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দু’টির আর্থিক সহায়তার পরিমাণ, কিস্তির নিয়ম, যোগ্যতা এবং অতিরিক্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। কৃষক বন্ধুতে বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার পাশাপাশি রয়েছে মৃত্যুকালীন আর্থিক সুবিধা। অন্যদিকে PM Kisan-এর আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে পান ৬ হাজার টাকা।

Leave a comment