কয়েক দিন আগেই খড়ি নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছিল। ভাগ্যক্রমে প্রাণহানি এড়ানো গেলেও সেই ঘটনার পর নদী পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের কুতিরডাঙ্গায় এখনও বদলায়নি পরিস্থিতি। দুই পাড়ের সংযোগের অন্যতম ভরসা সেই নৌকা, আর নৌকা চালানোর সময় যাত্রীদের দড়ি ধরে পারাপারের ছবি দেখে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
দড়ি ধরেই নদী পারাপার
কুতিরডাঙ্গায় খড়ি নদীর দুই পাড়ের মধ্যে যাতায়াতের জন্য দড়ি বেঁধে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সেই দড়ি ধরে নৌকা চালানোর পাশাপাশি যাত্রীদেরও নদী পার হতে দেখা যাচ্ছে।বর্ষায় নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়ারাও প্রতিদিন এই পথে নদী পার হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু মানুষ নয়, মোটরবাইক এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীও নৌকায় করে পারাপার করা হচ্ছে।
লাইফ জ্যাকেট নিয়েও প্রশ্ন
নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক যাত্রীর কাছেই তা থাকছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে কোনও কারণে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হলে বা মাঝনদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বিপদ সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।বিশেষ করে বর্ষার সময়ে নদীর স্রোত বাড়লে এই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়। স্কুলপড়ুয়া এবং বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়েও তাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
নৌকাডুবির পর প্রশাসনের পরিদর্শন
কয়েক দিন আগে নৌকাডুবির ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় গিয়েছিলেন পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিডিও এবং নাদনঘাট থানার আইসি। নৌকার প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং সতর্কতার সঙ্গে ফেরিঘাট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, নৌকা মেরামত করলেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। কারণ এপার-ওপারের যোগাযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে যে অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, সেটিই মূল উদ্বেগের কারণ।
স্কুলপড়ুয়া ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি চিন্তা
প্রতিদিন পড়াশোনা, কাজ কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নদী পার হতে হয় বহু মানুষকে। তাঁদের মধ্যে স্কুলপড়ুয়া এবং বয়স্কদের সংখ্যাও রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথের উপর নির্ভরতা তাঁদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি।নৌকাডুবির পরও যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
পাকা সেতুর দাবি জোরালো
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, কুতিরডাঙ্গায় খড়ি নদীর উপর একটি পাকা সেতু তৈরি করা হোক। তাঁদের মতে, দড়ি এবং নৌকার মতো অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে স্থায়ীভাবে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।তাই দ্রুত নিরাপদ নৌকা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট এবং নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছে।
পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের কুতিরডাঙ্গায় খড়ি নদী পারাপারের ক্ষেত্রে এখনও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ উঠছে। নৌকাডুবির ঘটনার কয়েক দিন পরেও দড়ি ধরে নৌকায় যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। অনেকের কাছে লাইফ জ্যাকেট নেই বলেও অভিযোগ। স্কুলপড়ুয়া থেকে বয়স্ক—প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। দ্রুত নিরাপদ নৌকা ও পাকা সেতুর দাবি উঠেছে।











