Kolkata Drainage Alert: সোনারপুরের খালেই বিপত্তি! উল্টো স্রোতে কলকাতার দিকে জল, বর্ষায় বড়সড় বিপদের আশঙ্কা

সোনারপুরের ১৫-২০টি খালের নাব্যতা কমায় জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত। উল্টো স্রোতে কলকাতার নিকাশি পথে জল ঢোকার আশঙ্কা। খাল সংস্কার নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা।

বর্ষা নামতেই ফের সামনে কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ। সোনারপুরের একাধিক খাল দীর্ঘদিন ধরে মজে যাওয়ায় জল স্বাভাবিক গতিপথে বইতে পারছে না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কিছু ক্ষেত্রে জল উল্টো স্রোতে কলকাতার দিকের নিকাশি পথে ঢুকছে বলে দাবি। এর জেরে পূর্ব কলকাতার জলাভূমি এবং শহরের নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেন তৈরি হয়েছে এই সমস্যা?

সোনারপুর এলাকার বেশ কয়েকটি খালে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমা, পলি পড়া এবং কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়ার কারণে নাব্যতা কমেছে। কোথাও কোথাও অবৈধ দখলের অভিযোগও রয়েছে। ফলে খালের জলধারণ ও জল বহন করার ক্ষমতা কমে গিয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মজে যাওয়া খালগুলির প্রবাহপথ চিহ্নিত করে সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ২০টি খাল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দাদপুর খাল, কারের খাল, তেহরুইয়া খাল-সহ সোনারপুরের প্রায় ২০টি খালের জল বিভিন্ন সংযোগকারী নিকাশি খালের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার কথা। সেই জল বানতলা ও ঘুষিঘাটা হয়ে বিদ্যাধরী নদীতে পৌঁছনোর কথা।কিন্তু খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষার অতিরিক্ত জল দ্রুত বেরোতে না পারলে কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার উপর তার চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব খাল এক দফতরের অধীনে নয়

সমস্যার অন্যতম বড় কারণ হল প্রশাসনিক দায়িত্বের বিভাজন। এলাকার সব খাল সেচ দফতরের আওতায় নেই। বেশ কিছু খালের দায়িত্ব স্থানীয় পঞ্চায়েতের হাতে থাকায় সংস্কারের কাজেও সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।এবার পরিস্থিতি মোকাবিলায় পঞ্চায়েত খাল সংস্কারের কাজ করবে এবং সেচ দফতর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যা কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতেও প্রভাব পড়তে পারে

সোনারপুরের খালের জলপ্রবাহের সঙ্গে পূর্ব কলকাতার জলাভূমি এলাকারও গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। এই জলাভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাছের ভেড়ি এবং সবজি চাষের জমি রয়েছে। বিভিন্ন খালের মাধ্যমে শহর ও শহরতলির নিকাশি জল সেখানে পৌঁছয় এবং সেই জল কৃষি ও মৎস্যচাষের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।কিন্তু কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে সোনারপুরের খালগুলির মাধ্যমে পর্যাপ্ত জল পৌঁছচ্ছে না বলে স্থানীয় স্তরে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে একদিকে জল জমার আশঙ্কা, অন্যদিকে জলাভূমির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা—দুই দিকেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

খালগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রবাহপথের মানচিত্র তৈরির কাজ হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তরফে দাবি করা হয়েছে। মজে যাওয়া অংশ চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বর্ষার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে দ্রুত পলি ও বর্জ্য পরিষ্কার, কচুরিপানা সরানো এবং দখলমুক্ত করার মতো পদক্ষেপ কতটা কার্যকরভাবে নেওয়া যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Leave a comment