গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী কমিয়ে মান বাড়ানোর নির্দেশ লালবাজারের

গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী কমিয়ে মান বাড়ানোর নির্দেশ লালবাজারের

সাক্ষীর মান: গুরুতর ফৌজদারি মামলার তদন্তে সাক্ষীর মান বাড়াতে নতুন নীতিমালা জারি করল লালবাজার। বহু ক্ষেত্রে অতি-সংখ্যক সাক্ষীর কারণে বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে, অভিযুক্তরাও দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকেন—এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন নির্দেশ। পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট জানান, এখন থেকে তদন্তকারী আধিকারিকদের শুধুমাত্র সেই সব সাক্ষীকেই যুক্ত করতে হবে, যাঁদের বক্তব্য প্রাসঙ্গিক, শক্তিশালী এবং মামলার ফল নির্ধারণে প্রয়োজনীয়।

লালবাজারের নতুন নীতি: সংখ্যা নয়, সাক্ষীর মানই প্রধান

লালবাজারের মতে, বহু মামলায় ৩০–৪০ জন সাক্ষী তালিকাভুক্ত করার ফলে শুনানির গতি মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে মামলার জট বাড়ে এবং বিচার স্থগিত হয়ে থাকে দীর্ঘদিন।অফিসাররা মনে করছেন, প্রত্যেক প্রাসঙ্গিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নেওয়া জরুরি হলেও অপ্রয়োজনীয় সাক্ষী যুক্ত করলে তদন্ত দুর্বল হয়। তাই এখন গুণগত মানই আসল পরিচায়ক।

পুলিশের দাবি: অতি সাক্ষীর কারণে বছরের পর বছর জেলবন্দি থাকেন অভিযুক্তরা

পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, খুন, সাইবার জালিয়াতি, মাদক পাচারসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্তরা ৫–১০ বছর ধরে জেলে আটকে থেকেছেন শুধু সাক্ষ্যপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায়।অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে যুক্তি দেখায়—তদন্ত শেষ হলেও সাক্ষীর সংখ্যা এত বেশি যে বিচার করতে কয়েক বছর কেটে যাবে। ফলে জামিনের আবেদন জোরালো হয়ে ওঠে।

তদন্তের নতুন নিয়ম: মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বাধ্যতামূলক

খুন বা রহস্যমৃত্যুর মামলায় তদন্তকারী অফিসারের দায়িত্বও নতুন করে নির্ধারণ করেছে লালবাজার। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথমেই মৃতের পরিবার বা স্থানীয় অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ নিতে হবে।অন্য শহর বা রাজ্য থেকে এসে কলকাতায় একা থাকা কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর প্রতিবেশী বা পরিচিত অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। এরপরই এফআইআর করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হবে।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত হবে, তবে সতর্কতাও দরকার

আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে এবং অকারণে বিচারবিভাগীয় বিলম্ব কমবে।তবে সতর্ক করে তাঁরা জানিয়েছেন, সাক্ষী কমানোর নামে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাতে বাদ না যায়, তার ওপর নজর রাখতে হবে। এজন্য ডেপুটি কমিশনার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারদের নিয়মিত তদারকি করতে বলা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে অপ্রয়োজনীয় সাক্ষী রাখার প্রবণতা কমাতে কঠোর নির্দেশ দিল লালবাজার। নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে সংখ্যার পরিবর্তে সাক্ষীর মান ও প্রাসঙ্গিকতাই প্রাধান্য পাবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা সমস্ত থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন—দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কেবল প্রয়োজনীয় সাক্ষীই নথিভুক্ত করতে হবে।

Leave a comment