অনেকেই ডায়েট ও ব্যায়াম ঠিক রাখার পরেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একটি বড় কারণ হতে পারে অনিয়মিত ঘুম ও গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। এই অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়া (metabolism) ব্যাহত করে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার পথ তৈরি করে।
গভীর রাত জাগা কেন বিপজ্জনক?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত ১০টা থেকে ভোর ২টা পর্যন্ত সময় শরীরের ডিটক্স ও রিকভারি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে না ঘুমালে শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ধীরে ধীরে লিভারের উপর চাপ বাড়ায়।
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে সম্পর্ক
দীর্ঘদিন রাত জেগে থাকলে শরীরে ইনফ্লেমেশন (inflammation) বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে এবং শরীর শর্করা ও ফ্যাট ঠিকভাবে প্রক্রিয়া করতে পারে না। এই অবস্থাই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)-এর ঝুঁকি বাড়ায়।
শরীরের ভিতরে কী পরিবর্তন ঘটে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত ঘুমের কারণে—
লিভারের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়
শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে শুরু করে
রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয়
হজম ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে
গবেষণা কী বলছে?
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস NAFLD বা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম (জৈব ঘড়ি) ভেঙে গেলে লিভারের রাতের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
রাত জেগে কাজ করা বা দেরিতে ঘুমোনোর অভ্যাস এখনকার লাইফস্টাইলে খুবই সাধারণ। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শুধু ক্লান্তিই নয়, বরং ফ্যাটি লিভার, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি (circadian rhythm) নষ্ট হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়।













