দেশজুড়ে গ্যাস ব্যবহারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। Ministry of Petroleum and Natural Gas-এর নতুন নির্দেশে স্পষ্ট—একই বাড়িতে Liquefied Petroleum Gas ও Piped Natural Gas একসঙ্গে ব্যবহার আর সহজ হবে না। সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত প্রাপকদের কাছে ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া এবং জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করা।
PNG থাকলে LPG রাখা যাবে না—কী বলছে নতুন নিয়ম?
সরকার জানিয়েছে, যেসব বাড়িতে ইতিমধ্যেই পাইপলাইনের গ্যাস (PNG) পৌঁছে গিয়েছে, তারা আর ভর্তুকিযুক্ত LPG সিলিন্ডার রাখতে পারবেন না। এই নিয়ম কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পণ্য আইন বা Essential Commodities Act-এর আওতায় সংশোধন আনা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? জ্বালানি সংকটই বড় কারণ
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েন চলছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় LPG ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের ওপর। এই পরিস্থিতিতে LPG-এর ওপর চাপ কমিয়ে PNG ব্যবহারে জোর দিতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
ডিলারদেরও কড়া নির্দেশ—নতুন সংযোগ বা রিফিল বন্ধ
সরকারি তেল সংস্থা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেসব গ্রাহকের বাড়িতে PNG সংযোগ রয়েছে, তাদের নতুন LPG কানেকশন দেওয়া যাবে না, এমনকি রিফিলও বন্ধ রাখা হতে পারে। এতে ডবল সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা কমানোই মূল লক্ষ্য।
কতজন ইতিমধ্যেই ছেড়েছেন LPG? কী বলছে পরিসংখ্যান
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার গ্রাহক ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় LPG সংযোগ ছেড়েছেন। তবে এখনও বহু পরিবার একই সঙ্গে LPG ও PNG ব্যবহার করছেন বলে অনুমান। তাই ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ধরনের গ্রাহকদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব—মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাড়ছে চাপ
ভারতের LPG আমদানির বড় অংশ আসে Saudi Arabia ও United Arab Emirates থেকে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘এক ব্যক্তি, এক গ্যাস সংযোগ’—এই নীতিতেই জোর
সরকার আপাতত “এক ব্যক্তি, এক গ্যাস সংযোগ” নীতি কার্যকর করতে চাইছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং কোনও পরিবার যাতে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা যাবে।
একই বাড়িতে LPG ও PNG—দুটি গ্যাস সংযোগ রাখার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী PNG থাকলে LPG সিলিন্ডার সারেন্ডার বাধ্যতামূলক হতে পারে। জ্বালানি সংকট ও ভর্তুকির সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।











