লখনউয়ের মন্দিরে পঞ্চমুখী হনুমানের পাঁচটি রুপোর মুকুটসহ একাধিক মুকুট ও ছত্র চুরি

লখনউয়ের একটি মন্দিরে চোরেরা মূল চ্যানেল গেটের চারটি তালা কেটে প্রবেশ করে পঞ্চমুখী হনুমানের মূর্তির পাঁচটি রুপোর মুকুটসহ অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তির মুকুট ও ছত্র চুরি করেছে। পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে।
লখনউয়ের মন্দিরে পঞ্চমুখী হনুমানের পাঁচটি রুপোর মুকুটসহ একাধিক মুকুট ও ছত্র চুরি
Photo Credit / Attribution: Google

লখনউয়ের একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় পঞ্চমুখী হনুমানের মূর্তি থেকে পাঁচটি রুপোর মুকুটসহ অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তির মুকুট ও ছত্র চুরি হয়েছে। চোরেরা মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে মূল চ্যানেল গেটের চারটি তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে চুরির ঘটনা ঘটায়।

সকালে মন্দির খুলতে এসে পুরোহিত ও ভক্তরা ভাঙা তালা দেখতে পান। পরে মন্দিরের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন মূর্তির মুকুট ও ছত্র উধাও। এরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। চোরদের শনাক্ত করতে মন্দির ও আশপাশে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চোরেরা প্রথমে মন্দিরের বাইরের চ্যানেল গেটের চারটি তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা একে একে মূর্তিগুলোর ওপর থাকা মূল্যবান মুকুট ও ছত্র খুলে নিয়ে যায়। পঞ্চমুখী হনুমানের মূর্তিতে থাকা পাঁচটি রুপোর মুকুটও তারা চুরি করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মন্দিরের আশপাশে বহু মানুষ জড়ো হন। ভক্তরা চুরির ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রুপোর মুকুট ও ছত্র রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চমুখী হনুমানের মূর্তির পাঁচটি মুকুট প্রধান। এছাড়া মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তির মুকুট ও ছত্রও চুরি হয়েছে।

ঘটনার ধরন দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে, চোরেরা আগে থেকেই মন্দিরের রেকি করেছিল। তাদের জানা ছিল যে মন্দিরের ভিতরে মূল্যবান ধাতুর তৈরি মুকুট ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। রাতের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে তারা চুরির ঘটনা ঘটায়।

পুলিশ আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ করছে। মন্দির সংলগ্ন সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি যাতায়াতের পথের ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে। ঘটনার পর চোরেরা কোন দিকে পালিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল।

মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত এবং রাতের সময় পুলিশি টহল বাড়ানো প্রয়োজন।

পুরোহিত ও মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সকালে মন্দিরে পৌঁছে প্রথমে ভাঙা তালা দেখতে পান। পরে ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক মূর্তির ওপর থাকা মুকুট ও ছত্র নেই। এরপরই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

পুলিশ চুরির অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। রুপোর মুকুট ও ছত্রের সংখ্যা এবং ওজনের ভিত্তিতে মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে, চুরির ঘটনায় একজন নাকি একাধিক ব্যক্তির একটি দল জড়িত ছিল। চারটি তালা কেটে মন্দিরে প্রবেশ এবং একাধিক মূর্তি থেকে সামগ্রী সরাতে সময় লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলছে এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার আশা করছে।

ঘটনার পর মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের সময় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সিসিটিভি নজরদারি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা উচিত।

বর্তমানে পুলিশ চুরি হওয়া মুকুট ও ছত্র উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সম্ভাব্য প্রমাণ এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Leave a comment