রেলের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন। স্টেশন থেকে ট্রেন—সব জায়গাতেই চলছে নিবিড় টিকিট চেকিং অভিযান। আর সেই অভিযানের ফলেই মাত্র ১০ দিনের মধ্যে কোটি টাকার বেশি আয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছে ডিভিশন।

১০ দিনেই রেকর্ড আয়, চমকে দিল মালদহ ডিভিশন
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই টিকিট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে। পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনের ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে এটিই সর্বোচ্চ টিকিট চেকিং আয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। ফলে রেলের রাজস্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বিনা টিকিটে যাতায়াতকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
২৮১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি আয়ে
রেল আধিকারিকদের মতে, গত সময়ের তুলনায় চলতি বছরের এই আয় প্রায় ২৮১.৪৪ শতাংশ বেশি। নিয়মিত নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং স্টেশনভিত্তিক চেকিং জোরদার করাতেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের বৈধ টিকিট কেটে ভ্রমণের বিষয়ে সচেতন করতেও প্রচার চালানো হচ্ছে।

দিনরাত কাজ করছেন টিকিট পরীক্ষকরা
ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মনিশ কুমার গুপ্তার নির্দেশে বাণিজ্য বিভাগ, কমার্শিয়াল ইন্সপেক্টর এবং টিকিট পরীক্ষকদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ট্রেন ও স্টেশনে হানা দিয়ে বিনা টিকিট যাত্রীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফলেই এই নজিরবিহীন সাফল্য এসেছে।
রাজস্বের পাশাপাশি বাড়ছে শৃঙ্খলাও
রেল আধিকারিকদের দাবি, কড়া চেকিংয়ের ফলে শুধু আয় বাড়েনি, যাত্রীদের মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। বহু যাত্রী এখন আগের তুলনায় বেশি সচেতন হয়ে টিকিট কেটে ভ্রমণ করছেন। এর ফলে ট্রেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সুবিধা হচ্ছে।

আগামীতেও চলবে আরও কড়া অভিযান
ডিআরএম মনিশ কুমার গুপ্তা জানিয়েছেন, আগামী দিনেও এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। রেলের রাজস্ব সুরক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনে টিকিট চেকিং অভিযানে বড় সাফল্য। ২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই বিনা টিকিট যাত্রীদের থেকে জরিমানা বাবদ প্রায় ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, ডিভিশনের ইতিহাসে এত কম সময়ে এত বেশি আয়ের নজির আগে দেখা যায়নি।











