হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় তরুণী, পাশে দাঁড়ালেন ‘দাদারা’! রাখির দিনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা

মালদহের হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। রাখির দিনে তাঁদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন তরুণী।

মন্দির চত্বরে দীর্ঘক্ষণ ধরে একা বসে থাকা তরুণীকে দেখে সন্দেহ হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের। কাছে গিয়ে কথা বলতেই জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানে এসে পড়েছিলেন তিনি। এরপর শুরু হয় পরিবারের খোঁজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তরুণীকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। আর বাড়ি ফেরার আগে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে রাখি পরিয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন তিনি।

হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় তরুণী, পাশে দাঁড়ালেন ‘দাদারা’! রাখির দিনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
মন্দির চত্বরে একা তরুণী, সন্দেহ স্বেচ্ছাসেবীদের

মালদহ শহরের হ্যান্টা কালী মন্দির এলাকায় নিয়মিত অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। সেই কাজেই বেরিয়ে তাঁরা দেখতে পান, মন্দির চত্বরে এক তরুণী দীর্ঘক্ষণ ধরে একা বসে রয়েছেন।পরিস্থিতি দেখে সংগঠনের সদস্য ভাস্কর ও বিকাশ তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, তরুণীর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি মালদহের হবিবপুর এলাকায়। কোনও কারণে পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর তিনি সেখানে এসে পৌঁছেছিলেন।

স্থানীয়দের সাহায্যে শুরু হয় পরিবারের খোঁজ

তরুণীর পরিচয় জানার পর তাঁকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন স্বেচ্ছাসেবীরা। হবিবপুরের পার্থ মুর্মু এবং সংগঠনের সদস্য বাচ্চু মুন্ডার সাহায্যে তাঁর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।তবে বাড়িটি দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় রাতেই পরিবারের সদস্যদের সেখানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। তরুণীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ইংরেজবাজার থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় তরুণী, পাশে দাঁড়ালেন ‘দাদারা’! রাখির দিনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত মিলল পরিবারের সন্ধান

স্বেচ্ছাসেবীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুলিশ তরুণীকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া। জানা যায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।পরদিন রাখির উৎসবের দিনে ইংরেজবাজার থানার মাধ্যমে তরুণীকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি পান তিনি।

‘দাদাদের’ হাতে রাখি, আবেগঘন মুহূর্ত

পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আগে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন ওই তরুণী। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বিপদের সময় যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের ভাইয়ের মর্যাদা দিয়েই রাখি পরান তিনি।এই ঘটনায় মন্দির চত্বরের পরিবেশও আবেগঘন হয়ে ওঠে। তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও।

হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় তরুণী, পাশে দাঁড়ালেন ‘দাদারা’! রাখির দিনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
কী বললেন সংগঠনের সম্পাদক?

সংগঠনের সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ জানান, প্রতিদিনের মতো তাঁরা হ্যান্টা কালী মন্দির এলাকায় অসহায় মানুষদের খাবার দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তরুণীকে একা বসে থাকতে দেখে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরে তাঁর পরিচয় ও পরিবারের বিষয়ে জানতে পেরে ঠিকানা খুঁজে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়।তিনি আরও জানান, পুলিশের মাধ্যমে তরুণীকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে রাখির দিনে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারাটা তাঁদের কাছে আলাদা তৃপ্তির।

হ্যান্টা কালী মন্দিরে অসহায় অবস্থায় তরুণী, পাশে দাঁড়ালেন ‘দাদারা’! রাখির দিনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা
মালদহের হ্যান্টা কালী মন্দির চত্বরে অসহায় অবস্থায় এক তরুণীকে দেখতে পান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। পরিচয় জানার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর পরিবারের সন্ধান করা হয়। রাখির দিনে নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আগে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন তরুণী।

Leave a comment