কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে মমতার বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি পদক্ষেপ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আপত্তি জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপিকে নিশানা করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা বলেন।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিরোধিতা করেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবসময় একই থাকে না।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত যুবকদের ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। পুলিশের মাধ্যমে মানুষের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি চাপে নতি স্বীকার করবেন না। ক্যামাক স্ট্রিটের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে যা ঘটেছে, তা গোটা বাংলা দেখছে। তিনি তাঁর সমর্থকদেরও রাজনৈতিকভাবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন। পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশ সেখানে গ্যাস কাটার নিয়ে কেন পৌঁছেছিল।

দলীয় কার্যালয় এবং লাইব্রেরি থেকে কথিত চুরির অভিযোগেরও জবাব দেন মমতা। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বই চুরির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের প্রমাণ সামনে আনার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায়ও বই চুরির মতো কোনও কাজ করার প্রয়োজন তাঁর নেই। তিনি আরও বলেন, আজও চাইলে তিনি একাধিক লাইব্রেরি তৈরি করাতে পারেন।

ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতেই মমতার এই বক্তব্য। এই ঘটনায় পুলিশ ও পুরসভার পদক্ষেপ নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তৃণমূলের প্রবীণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনুষ্ঠানে বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, শাসকপক্ষ কথিত অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যারা আজ ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের মনে রাখা উচিত যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবসময় একই থাকে না। তাঁর দাবি, এক সময় বিজেপিকেও ক্ষমতার বাইরে যেতে হবে।

বিজেপির পাশে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতার সমর্থনকে স্থায়ী নিরাপত্তা মনে করা ভুল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বদলাতে বেশি সময় লাগে না।

তৃণমূলের মধ্যে কথিত অসন্তুষ্ট গোষ্ঠীর প্রসঙ্গেও অভিষেক কড়া অবস্থান নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার সবচেয়ে বড় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন নেই।

বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত তৃণমূলের কার্যালয়ে হওয়া পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভার একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে পৌঁছয়।

পুরসভার পক্ষ থেকে কার্যালয়ে লাগানো সাইনবোর্ডকে নিয়মবিরুদ্ধ বলে জানানো হয় এবং তা সরানোর পদক্ষেপ করা হয়। এই সময় তৃণমূল নেতা এবং পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের মধ্যে বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন-সহ দলের একাধিক নেতা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে স্লোগান ও প্রতিবাদ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেরেক ও'ব্রায়েন কার্যালয়ের সিঁড়িতে বসে পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেন।

পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যালয়ে পৌঁছন এবং পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। তবে আধিকারিকরা সাইনবোর্ড সরানোর পদক্ষেপ সম্পূর্ণ করেন।

এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দলের অন্যান্য নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেফতারের তথ্যও সামনে আসে।

তৃণমূল পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলীয় নেতাদের অভিযোগ, পুরসভার পদক্ষেপ যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়নি।

ডেরেক ও'ব্রায়েনের দাবি, পুলিশকর্মীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন এবং পদক্ষেপের সময় দলীয় কর্মীদের সঙ্গেও বলপ্রয়োগ করা হয়। নোটিসের বৈধতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তবে পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা। তদন্তের পরেই ঘটনাপ্রবাহের সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

কলকাতায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানে মমতার বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা ছাড়াও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অনুষ্ঠানের সময় জনসাধারণের চলাচলের পথ পুরোপুরি খালি রাখা হয়নি।

জানা যায়, আদালত অনুষ্ঠানের সময় রাস্তায় চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকার এবং তৃণমূলের মধ্যে নতুন সংঘাত তৈরি হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি। তিনি বলেন, নিয়ম লঙ্ঘন হলে পদক্ষেপ করা হবে।

অনুষ্ঠান সংক্রান্ত এই বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় জনসাধারণের চলাচলের পথ খালি রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দেশ মানা হয়নি।

সরকারের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ সবার জন্য প্রযোজ্য এবং কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা এর থেকে ছাড় পেতে পারেন না।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। দলের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিরোধী নেতা ও কর্মীদের নিশানা করছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগে থেকেই তীব্র। পুলিশি পদক্ষেপ, এফআইআর এবং জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের বক্তব্য, আইন এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

এই ঘটনায় একদিকে তৃণমূল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে সরকার নিয়ম এবং বিচারবিভাগীয় নির্দেশ মেনে চলার কথা বলছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় সংক্রান্ত বিতর্ক এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এফআইআর এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য আরও বাড়তে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে তৃণমূল এই ঘটনাকে রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা এবং আদালতের নির্দেশ পালনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো ঘটনায় পুলিশি তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আগামী দিনে তদন্ত ও আদালতের পদক্ষেপে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা এবং ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠান নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির আইনি পরিণতি কী হয়, তা স্পষ্ট হবে।

 

Leave a comment