উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ঘিরে বিতর্কের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। খাড়গের কথিত অপমানের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হলদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতির অনুষ্ঠানের পর কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’-কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট সঠিক বলে দাবি করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কংগ্রেস কর্মীরা দেরাদুনে মহেন্দ্র ভট্টের বাসভবন ঘেরাও করে স্লোগান দেন।
হলদ্বানিতে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অনুষ্ঠানের পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন বিজেপি কর্মী কথিতভাবে ওই স্থানটির শুদ্ধিকরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কংগ্রেস তীব্র আপত্তি জানায়। কংগ্রেস নেতারা ঘটনাটিকে খাড়গে এবং দলিত সমাজের অপমান হিসেবে উল্লেখ করে বিজেপির সমালোচনা করেন।
রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও জাতীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতির সঙ্গে এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক মর্যাদার পরিপন্থী। রাহুল গান্ধী বিষয়টিকে সামাজিক সম্মান এবং সংবিধান-সংক্রান্ত প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত করেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, খাড়গের অনুষ্ঠানের পর হলদ্বানিতে যেভাবে কথিত শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে, তা বিজেপির মানসিকতার প্রতিফলন। দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধ আলাদা বিষয় হলেও কোনও নেতার অনুষ্ঠানস্থলকে অপবিত্র বলে শুদ্ধিকরণ করা গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে হলদ্বানিতে হওয়া শুদ্ধিকরণকে যথাযথ বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের পর কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্ক আরও বাড়ে। কংগ্রেস নেতারা মহেন্দ্র ভট্টের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিষয়টিকে দলিত সমাজের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত করেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, স্থানীয় স্তরে কর্মীদের করা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তবে কংগ্রেস এটিকে শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যকলাপ হিসেবে মানতে অস্বীকার করে এবং ঘটনাটিকে খাড়গের অপমানের সঙ্গে যুক্ত করছে।
মহেন্দ্র ভট্টের বক্তব্যের প্রতিবাদে দেরাদুনে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বহু কর্মী তাঁর বাসভবনের বাইরে পৌঁছে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিক্ষোভের সময় পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। বাসভবনের আশপাশে কর্মীদের এগিয়ে যাওয়া আটকাতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও জানা যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, মহেন্দ্র ভট্টের বক্তব্য শুধু রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গের বিষয় নয়, বরং দেশের কোটি কোটি দলিতের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত। কংগ্রেস বিজেপির কাছে স্পষ্ট করতে বলেছে, দল এই ধরনের ভাষা ও কর্মকাণ্ডকে গ্রহণ করে কি না।
রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির পর বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কংগ্রেস এই ইস্যু জাতীয় স্তরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, সাংবিধানিক পদ এবং জাতীয় নেতাদের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, কংগ্রেস পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিজেপির যুক্তি, স্থানীয় স্তরে ঘটে যাওয়া একটি কর্মকাণ্ডকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা যথাযথ নয়। তবে মহেন্দ্র ভট্টের বক্তব্যের পর কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের নতুন বিষয় পেয়েছে।
হলদ্বানি ও দেরাদুনের ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বেড়েছে। কংগ্রেস কর্মীরা বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেছেন এবং বিজেপিও কংগ্রেসের অভিযোগের জবাব দিচ্ছে।
কংগ্রেসের বিক্ষোভের সময় কর্মীরা মহেন্দ্র ভট্টের বাসভবনের বাইরে স্লোগান দেন। দলের নেতারা বলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে তাঁর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। কংগ্রেস সতর্ক করেছে, বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে দল আন্দোলন আরও জোরদার করবে।
রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়াও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিষয়টি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে তুলেছেন। কংগ্রেস এখন প্রশ্ন তুলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মহেন্দ্র ভট্টের বক্তব্য নিয়ে কী অবস্থান নেয়।
মল্লিকার্জুন খাড়গে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই কারণে তাঁর অনুষ্ঠানের পর কথিত শুদ্ধিকরণকে কংগ্রেস রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে থাকা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, মহেন্দ্র ভট্ট উত্তরাখণ্ডে বিজেপির অন্যতম প্রধান নেতা এবং দলের রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বিষয়টি সরাসরি রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
দেরাদুনে বিক্ষোভের পর পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ায়। বিক্ষোভের সময় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা চেষ্টা করেন। কংগ্রেস কর্মীদের বোঝানো এবং শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি ঘটনা—রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, হলদ্বানিতে হওয়া কথিত শুদ্ধিকরণকে মহেন্দ্র ভট্টের সঠিক বলে দাবি করা এবং এর প্রতিবাদে কংগ্রেস কর্মীদের দেরাদুনে তাঁর বাসভবন ঘেরাও। এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরে উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আগামী দিনে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই এই বিষয়টি নিজেদের মতো করে মানুষের সামনে তুলতে পারে। কংগ্রেস এটিকে সামাজিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক মর্যাদার বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে, আর বিজেপি এটিকে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিতর্কে কোনও সরকারি ব্যবস্থা বা বক্তব্য দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





