Election Commission Decision: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে কমিশনের দুটি নয়া সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, বেসরকারি বা আবাসিক কমপ্লেক্সে পোলিং স্টেশন করার পরিকল্পনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রচলিত নিয়মের বাইরে। পাশাপাশি, সিইও অফিস থেকে নতুন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি—এই ধরনের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় এবং এতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল উপকৃত হতে পারে।

বেসরকারি স্থানে পোলিং স্টেশন গড়ার প্রস্তাবে উদ্বেগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে জেলা আধিকারিকদের বেসরকারি ভবন বা রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে পোলিং স্টেশন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি বলেন, পোলিং স্টেশন বরাবর সরকারি বা আধা সরকারি ভবনে করা হয়—কারণ সেগুলি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত।মমতার মতে, ব্যক্তিগত স্থানে ভোটকেন্দ্র হওয়া মানে নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ হয়ে পড়া।
‘হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন?’—মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
মমতা প্রশ্ন তোলেন, যখন বর্তমান ব্যবস্থা ঠিকভাবেই চলছে, তখন কমিশন কেন হঠাৎ নতুন ধরনের নির্দেশ দিচ্ছে?তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত ভোটারের নিরাপত্তা, কর্মকর্তাদের কাজ এবং নির্বাচনী পরিবেশ—সবকিছুকেই প্রভাবিত করতে পারে।তাঁর বক্তব্য—“ব্যক্তিগত আবাসনে পোলিং স্টেশন হলে সমস্যার সৃষ্টি হবে। কমিশনকে নিরপেক্ষতার স্বার্থে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

নতুন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগেও আপত্তি
মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত—সিইও অফিস থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ—নিয়ে সরব হন।
এতদিন ফিল্ড অফিসারদের প্রয়োজন অনুযায়ী অপারেটর নিয়োগের অধিকার ছিল এবং প্রয়োজনে জেলা নির্বাচন আধিকারিকও তা অনুমোদন করতেন।
মমতার অভিযোগ, “এই হঠাৎ পরিবর্তন উদ্বেগজনক। যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের নেওয়া হলে এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”
‘কোন রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা?’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতেই পারে।তিনি ইঙ্গিত করেন যে এতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সুবিধা পেতে পারে এবং এটি “কায়েমি স্বার্থের রক্ষায় তৈরি সিদ্ধান্ত” হতে পারে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি—এই প্রক্রিয়া নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের দুটি সিদ্ধান্ত—বেসরকারি স্থানে পোলিং স্টেশন তৈরির প্রস্তাব এবং নতুন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ—নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলি ভোটের নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।








