একদিকে সবুজে মোড়া পাহাড়, অন্যদিকে নীল জলের বিস্তার। মাঝখানে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা আর নির্জনতার শান্ত স্পর্শ। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে কয়েক মুহূর্ত প্রকৃতির সঙ্গে কাটাতে চাইলে ম্যাসাঞ্জর হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। বীরভূমের খুব কাছেই অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্র এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

বীরভূমের কাছেই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য
ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার অন্তর্গত হলেও ম্যাসাঞ্জরের সঙ্গে বীরভূমের যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ। সিউড়ি থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জলাধার বছরের প্রায় প্রতিটি সময়েই পর্যটকদের টানে। পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা বিশাল জলাধারের দৃশ্য প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করে।
রোমাঞ্চে ভরা পাহাড়ি রাস্তার অভিজ্ঞতা
সিউড়ি থেকে খটঙ্গা কিংবা তিলপাড়া হয়ে ম্যাসাঞ্জরের পথে এগোতে গেলে শেষ কয়েক কিলোমিটারে দেখা মেলে পাহাড় কেটে তৈরি আঁকাবাঁকা রাস্তার। এই পথের রোমাঞ্চই ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। গাড়ির জানালা দিয়ে চোখে পড়ে সবুজ পাহাড় আর বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য।
ইতিহাসের পাতায় ম্যাসাঞ্জর বাঁধ
ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর নির্মিত এই বিশাল বাঁধের ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। ১৯৫৫ সালে কানাডা সরকারের সহযোগিতায় তৈরি হয় ম্যাসাঞ্জর ড্যাম। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন কানাডার বিদেশমন্ত্রী লেস্টার বি. পিয়ারসন। সেই কারণেই একসময় একে ‘কানাডা ড্যাম’ বলেও ডাকা হতো।

কীভাবে পৌঁছবেন?
ম্যাসাঞ্জর পৌঁছতে সিউড়ি সবচেয়ে সুবিধাজনক প্রবেশদ্বার। এছাড়া দুমকা রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং দেওঘর বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এই পর্যটনকেন্দ্র। তারাপীঠ থেকে দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। ফলে তারাপীঠ দর্শনের সঙ্গে ম্যাসাঞ্জর ভ্রমণও সহজেই পরিকল্পনা করা যায়।
থাকার ও খাওয়ার সুবিধা
পর্যটকদের জন্য এখানে রয়েছে একাধিক থাকার ব্যবস্থা। ইয়ুথ হস্টেল থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড সরকারের ইকো কটেজ—বিভিন্ন বাজেটের পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই গড়ে উঠেছে পরিকাঠামো। বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু খাবারের দোকান, যেখানে স্থানীয় স্বাদের খাবার উপভোগ করা যায়।

প্রেম, প্রকৃতি আর প্রশান্তির ঠিকানা
ম্যাসাঞ্জরের অন্যতম আকর্ষণ তার শান্ত পরিবেশ। নদীবাঁধের বড় পাথরের উপর বসে প্রিয়জনের সঙ্গে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা প্রকৃতির নীরবতা উপভোগ করা—এই অভিজ্ঞতা সহজেই মন ছুঁয়ে যায়। তাই উইকএন্ডে শহরের ধোঁয়া-ধুলো ছেড়ে একটু স্বস্তির খোঁজে বেরোতে চাইলে ম্যাসাঞ্জর হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

শহুরে কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে দু’দিন কাটাতে চাইলে বীরভূমের কাছেই রয়েছে এক অনন্য গন্তব্য—ম্যাসাঞ্জর। ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর গড়ে ওঠা এই জলাধার পাহাড়, জঙ্গল ও বিস্তীর্ণ জলরাশির অপূর্ব মেলবন্ধনে পর্যটকদের মন জয় করে নিয়েছে। উইকএন্ড ট্রিপের জন্য এটি এখন বাঙালিদের অন্যতম পছন্দের ঠিকানা।








