Massive Storm Alert: ২৪ ঘণ্টায় ভয়ঙ্কর শক্তিবৃদ্ধি! ২৯০ কিমি গতিতে ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন ‘পোলো’, মেক্সিকো উপকূলে বাড়ছে সতর্কতা

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি ৫-এ পৌঁছল হ্যারিকেন পোলো। ঘণ্টায় ২৯০ কিমি বেগের ঝড়ে মেক্সিকো উপকূলে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা।

সমুদ্রের উষ্ণ জলরাশি এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে হ্যারিকেন ‘পোলো’। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ঝড়টির বাতাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়ে সেটি ক্যাটাগরি ৫-এর শক্তিশালী হ্যারিকেনে পরিণত হয়েছে। মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের দিকে এর প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও ঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় আচমকা শক্তিবৃদ্ধি

হ্যারিকেন ‘পোলো’-র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে এর দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ঝড়টির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল। মাত্র একদিনের মধ্যেই তা বেড়ে প্রায় ১১০ মাইল হয় এবং মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ঝড়টি ক্যাটাগরি ৫-এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।আবহাওয়াবিদদের ব্যবহৃত মানদণ্ড অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গতি অন্তত ৫৮ মাইল প্রতি ঘণ্টা বাড়লে তাকে অত্যন্ত দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধি বা Extreme Rapid Intensification বলা হয়। ‘পোলো’-র ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাতাসের গতি প্রায় ২৯০ কিলোমিটার

মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে ‘পোলো’-র সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এই তীব্রতার কারণে ঝড়টি ২০২৬ সালের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে ঝড়ের শক্তি কতটা বজায় থাকবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির ওপর।

কেন এত দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে পোলো?

ঝড়টির দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। এর গতিপথে থাকা উষ্ণ সমুদ্রের জলরাশি এবং অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।উষ্ণ সমুদ্রের জল থেকে ঘূর্ণিঝড় শক্তি পেতে পারে। অনুকূল বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে এই পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঝড় অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

সরাসরি মেক্সিকোয় আছড়ে পড়বে কি?

এই মুহূর্তে ঝড়টির সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস সরাসরি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। ‘পোলো’ মেক্সিকোর উপকূলের সমান্তরালে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে।তবে এর অর্থ উপকূলীয় অঞ্চল পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। ঝড়ের বাইরের বলয় ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর উপকূলের কাছে পৌঁছতে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তীব্র বাতাস এবং ভারী বৃষ্টির প্রভাব দেখা দিতে পারে।

গুয়েরেরো-মিচোয়াকানে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

বৃহস্পতিবারের মধ্যে মেক্সিকোর গুয়েরেরো এবং মিচোয়াকান অঞ্চলে প্রায় ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে ওয়াক্সাকা, কোলিমা এবং জালিস্কো অঞ্চলে প্রায় ২ থেকে ৪ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় জল জমার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উপকূলের পরিস্থিতির দিকে নজর

মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকাগুলিতেই ‘পোলো’-র প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের তীব্রতম বাতাস সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর বাইরের অংশ থেকে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছতে পারে।ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দু’দিন ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখা হবে। স্থলভাগ থেকে ঝড়টি কতটা দূরে থাকবে এবং এর তীব্রতা কমবে না আরও বাড়বে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রশান্ত মহাসাগরে মেক্সিকোর উপকূলের কাছে হ্যারিকেন ‘পোলো’ অত্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি ৫-এর তীব্রতায় পৌঁছেছে। এর সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঝড়টির সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ সরাসরি স্থলভাগে আঘাত করবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে। ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Leave a comment