মোদিকে আচমকা ফোন নেতানিয়াহুর, গাজা শান্তিচুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হঠাৎ ফোন করে মোদির সঙ্গে গাজা শান্তিচুক্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আচমকাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই ফোনালাপে গাজা শান্তিচুক্তি: নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা, অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত–ইজরায়েল সমন্বয় আরও জোরদার করার দিকেই বার্তা দিয়েছেন দুই নেতা।

নেতানিয়াহুর ফোনে প্রধান আলোচ্য গাজা যুদ্ধবিরতি

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে ইজরায়েল এবং হামাস যে চুক্তিতে পৌঁছেছে, সেই প্রসঙ্গই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।প্রধানমন্ত্রী মোদি আগে থেকেই এই শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ফোনে তিনি আবারও একই অবস্থান তুলে ধরেন।

দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে জোর

ভারত ও ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় যুক্ত।ফোনালাপে দুই নেতাই এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।সূত্রের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতেই নেতানিয়াহুর এই যোগাযোগ।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং তার বদলে যাওয়া চরিত্র নিয়েও কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা।মোদি ও নেতানিয়াহু দু’জনেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন।ভারতের দৃষ্টিতে এ বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ওয়েস্ট এশিয়ার অস্থিরতা সরাসরি ভারতের বাণিজ্য ও কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

ভারসাম্য রক্ষা করছে ভারত: কূটনৈতিক শিবিরের বিশ্লেষণ

ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান রেখেছে।একদিকে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা, অন্যদিকে প্যালেস্টাইনের মানবাধিকার প্রসঙ্গ—দু’পক্ষকেই বিবেচনায় রেখে নয়াদিল্লি চলছে।কূটনৈতিক মহলের মতে, ওয়েস্ট এশিয়ায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ভারতের আর্থিক, জ্বালানি এবং কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হঠাৎই ফোন করেন নরেন্দ্র মোদিকে। গাজা শান্তি প্রক্রিয়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে দুই নেতার বিস্তর আলোচনা হয় বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

Leave a comment