বিদায়ী ভাষণে মোহাম্মদ ইউনুসের ‘সেভেন সিস্টার্স’ উল্লেখ ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস তাঁর বিদায়ী ভাষণে ‘সেভেন সিস্টার্স’ উল্লেখ করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংযোগকেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পররাষ্ট্রনীতিতে স্বনির্ভর অবস্থানের ওপর জোর দেন, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস তাঁর ১৮ মাসের দায়িত্বকাল শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে নিজের কার্যক্রমের উল্লেখের পাশাপাশি ভারতের প্রতি পরোক্ষ মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ না করলেও ‘সেভেন সিস্টার্স’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে নির্দেশ করে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়।

ভাষণে ইউনুস উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি সংযোগকেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের নাম উল্লেখ না করেও তিনি কৌশলগত বার্তা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ ব্যবস্থায় একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে তুলে ধরেন।

ইউনুস বলেন, “আমাদের উন্মুক্ত সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার দ্বার। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে এই অঞ্চলে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আমাদের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছি। যদি দক্ষতা বৃদ্ধি না করা হয়, তাহলে অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা কেবল দেশের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য কার্যকর হতে পারে। তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যগুলি হলো অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা। এই রাজ্যগুলি মূল ভারতের সঙ্গে শিলিগুড়ি করিডোরের মাধ্যমে যুক্ত এবং সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত। ইউনুস বলেন, বাংলাদেশ এই রাজ্যগুলোর জন্য সামুদ্রিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করা সম্ভব।

বিদায়ী ভাষণে ইউনুস বলেন, তাঁর দায়িত্বকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী হয়েছে এবং দেশ আর কোনোভাবে নির্ভরশীল রাষ্ট্র নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন তার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় সক্ষম। তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে পররাষ্ট্রনীতি আর অন্য কোনো দেশের পরামর্শ বা নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল নয়।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ইউনুস বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। তিনি জানান, তাঁর মেয়াদকালে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ভরশীল মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

 

Leave a comment