জঙ্গলমহলের লাল মাটিতে শাক আলুর চাষ এখন কৃষকদের কাছে ভরসার জায়গা। সাধারণ আলুর তুলনায় বেশি লাভ এবং কম খরচের কারণে এই ফসল থেকেই কয়েক মাসে আয় করছেন হাজার হাজার টাকা। অর্থনৈতিক উন্নতির পথ দেখাচ্ছে এই নতুন ট্রেন্ড।
শাক আলু— জঙ্গলমহলের নতুন ‘মানি ক্রপ’
পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামসহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে শাক আলু। কৃষকদের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম ঝুঁকি থাকায় এবং ধারাবাহিক চাহিদা থাকায় এই আলু এখন তাঁদের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
![]()
লাল ও বেলে-দোঁআশ মাটিতে দুর্দান্ত ফলন
গড়বেতা এবং সাহেববাঁধ অঞ্চলের লাল আর বেলে-দোঁআশ মাটি শাক আলুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকায় বড় পরিমাণে চাষ হচ্ছে। ভাল মাটি ও জলপথ থাকলে ফলন আরও বেড়ে যায়, বলছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কম খরচ—বেশি লাভ
সাধারণ আলু চাষে খরচ বেশি পড়ে। তাছাড়া বাজারদর প্রায়ই ওঠানামা করে। এই অবস্থায় শাক আলু চাষ কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ।
সহজ চাষ
সেচ বা সার কম লাগে
কীটপতঙ্গের সমস্যা কম
কম সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ
এই চার কারণে ফসলটি দ্রুত লাভ এনে দেয়।
![]()
১৫–৩০ দিনে চারা, ৪৫–১২০ দিনের মধ্যেই ফসল
কৃষক বিধান ঘোষ জানান—
- বীজ রোপণের ১৫–৩০ দিনের মধ্যে চারা গজায়
- রোপণের মাত্র ৪৫–১২০ দিন পরেই ফসল তোলা যায়
- জুন–জুলাই মাসে চাষ শুরু হয়
- ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই বাজারে ওঠে
অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসেই কৃষকের হাতে আসে নগদ টাকা।
বাজারে দাপট— ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি
পৌষ সংক্রান্তির আগে জঙ্গলমহলের বাজার শাক আলুতে ভরে ওঠে। এই সময় কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ৭০–৮০ টাকা দামে বিক্রি হয়। ফলে প্রতি বিঘায় কৃষকদের লাভ হয় কয়েক হাজার টাকা। ক্রমাগত চাহিদার কারণে দামও বেশিরভাগ সময় স্থিতিশীল থাকে।
![]()
ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থকরী ফসল হয়ে উঠতে পারে
কৃষকদের দাবি, যদি বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে আগামী দিনে এই ফসল চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে। শাক আলু শিল্প জঙ্গলমহলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
![]()
জঙ্গলমহলের নতুন অর্থকরী ফসল হয়ে উঠছে শাক আলু। কম খরচে সহজ চাষ, দ্রুত ফলন এবং বাজারে ভালো দাম—এই তিন কারণে কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হচ্ছে। কয়েক মাসেই ঘরে আসছে হাজার হাজার টাকা, ফলে চাষের পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়ছে।













