সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখতেই গোড়ালিতে যেন কাঁটা ফোটার মতো ব্যথা! প্রথম কয়েক পা হাঁটতেই যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে যায়। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালেও একই সমস্যা। এমন হলে বিষয়টিকে শুধু সাধারণ পায়ের ব্যথা বলে এড়িয়ে যাবেন না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস। অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের মতে, কিছু সহজ যত্ন ও নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কী এই প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস?
পায়ের পাতার নীচে থাকা শক্তিশালী টিস্যুর একটি অংশকে বলা হয় প্ল্যান্টার ফাসিয়া। এটি গোড়ালির সঙ্গে পায়ের আঙুলের অংশকে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই টিস্যুতে অতিরিক্ত চাপ বা প্রদাহ তৈরি হলে দেখা দিতে পারে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস। এটি গোড়ালির ব্যথার অন্যতম পরিচিত কারণ।
সকালে উঠলেই কেন এত ব্যথা হয়?
ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ পায়ের পাতায় কোনও চাপ থাকে না। এই সময়ে প্ল্যান্টার ফাসিয়া কিছুটা শক্ত বা টানটান হয়ে যেতে পারে। সকালে বিছানা থেকে উঠে প্রথম কয়েক পা হাঁটার সময় হঠাৎ সেই টিস্যুতে টান পড়ে। তখনই গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট হাঁটার পর ব্যথা কিছুটা কমেও যায়। তবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বেশি হাঁটাহাঁটি করলে আবার যন্ত্রণা বাড়তে পারে।
ঠান্ডা জলের বোতলেই মিলতে পারে আরাম
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের অস্বস্তি কমানোর একটি সহজ ঘরোয়া উপায় হতে পারে ঠান্ডা জলের বোতল ব্যবহার। একটি ঠান্ডা জলের বোতল মেঝেতে রেখে তার উপর পায়ের পাতা দিয়ে ধীরে ধীরে সামনে-পিছনে গড়াতে পারেন।এইভাবে হালকা চাপ দিয়ে বোতল রোল করালে পায়ের পাতার নীচের অংশে ম্যাসাজের মতো প্রভাব পড়ে। ঠান্ডা প্রদাহ ও ব্যথা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যথা বেশি হলে বা সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেমন জুতো পরবেন?
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের ক্ষেত্রে জুতো বাছাইয়ের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এমন জুতো বেছে নিন যাতে—
পায়ের খিলানের জন্য ভালো আর্চ সাপোর্ট থাকে।
পর্যাপ্ত কুশনিং থাকে।
সোল খুব পাতলা বা নরম না হয়ে যথেষ্ট মজবুত হয়।
দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে হাঁটা এড়ানো যায়।
খুব চ্যাপ্টা চটি বা পায়ে পর্যাপ্ত সাপোর্ট না দেওয়া জুতো এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্ট্রেচিংও হতে পারে কার্যকর
নিয়মিত কাফ মাসল এবং প্ল্যান্টার ফাসিয়ার স্ট্রেচিং পায়ের পেশি ও টিস্যুর নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশ্রাম, সঠিক জুতো, প্রয়োজনমতো বরফ বা ঠান্ডা সেঁক এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও উপকারী হতে পারে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের সাধারণ ব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে উন্নতি দেখা যায়। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস আর হিল স্পার কি এক?
একেবারেই নয়। হিল স্পার হল গোড়ালির হাড়ে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত হাড়ের বৃদ্ধি। অন্যদিকে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস হল পায়ের পাতার নীচের প্ল্যান্টার ফাসিয়ায় সমস্যা।কিছু প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস রোগীর এক্স-রেতে হিল স্পার দেখা যেতে পারে। কিন্তু হিল স্পার থাকলেই যে সেটিই ব্যথার মূল কারণ, এমনটা নয়।
পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব?
সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস থেকে ভালোভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব। নিয়মিত স্ট্রেচিং, উপযুক্ত জুতো ব্যবহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পায়ের উপর অতিরিক্ত চাপ কমানো ভবিষ্যতে সমস্যা ফিরে আসার ঝুঁকিও কমাতে পারে।
সকালে বিছানা থেকে নামার পর গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা, কিছুক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটতে গেলেও পায়ে টনটনে যন্ত্রণা—এগুলি প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, স্ট্রেচিং, উপযুক্ত জুতো এবং পায়ের তলায় ঠান্ডা জলের বোতল ধীরে ধীরে গড়ানোর মতো কিছু সহজ পদ্ধতিতে উপকার মিলতে পারে।













