মুকুটমণিপুরে রোপওয়ে চালুর জোর দাবি, পর্যটনে নতুন দিগন্তের আশায় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা

মুকুটমণিপুরে রোপওয়ে চালুর সম্ভাবনা ঘিরে আশাবাদী পর্যটন শিল্প। পর্যটক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এই প্রকল্প।

জল, জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘেরা মুকুটমণিপুর দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। তবে পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকীকরণের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রোপওয়ে চালুর সম্ভাবনা নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে আশাবাদী করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক, নৌচালক ও বাসিন্দাদের।

রোপওয়ে প্রকল্প ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানান, দার্জিলিংয়ের আদলে মুকুটমণিপুরেও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে রোপওয়ে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখেই উচ্ছ্বসিত পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহল।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের বড় প্রত্যাশা

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরে মুকুটমণিপুরে পর্যটকের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। শীতকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বছরের অধিকাংশ সময় হোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌকা পরিষেবা এবং স্থানীয় ব্যবসা মন্দার মুখে পড়ে। রোপওয়ে চালু হলে পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ তৈরি হবে, ফলে সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনা বাড়তে পারে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোপওয়ে শুধু পর্যটন আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। হোটেল শিল্প, পরিবহণ ব্যবস্থা, হস্তশিল্প ব্যবসা, টোটো পরিষেবা এবং নৌকা ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

পর্যটকদের জন্য বাড়বে আধুনিক সুবিধা

বর্তমানে মুকুটমণিপুরের প্রধান আকর্ষণ জলাধার, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। কিন্তু আধুনিক বিনোদনমূলক অবকাঠামোর অভাবের কারণে অনেক পর্যটক দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন না। রোপওয়ে চালু হলে আকাশপথে জলাধার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ মিলবে, যা পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

স্থানীয়দের স্বপ্ন ফের জাগিয়ে তুলছে প্রকল্প

রোপওয়ে নিয়ে সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের আশা, সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মুকুটমণিপুর আবারও রাজ্যের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব গৌরব ফিরে পাবে। এতে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পথও আরও সুগম হবে।

বাঁকুড়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুরে রোপওয়ে চালুর দাবি ফের জোরালো হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর ইতিবাচক মন্তব্যের পর পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, রোপওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে।

 

Leave a comment