রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য এল বড় প্রাপ্তি। জেলার দুই বিধায়ক—গৌরী শঙ্কর ঘোষ ও গার্গী দাস ঘোষ—মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাওয়ায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠক গৌরী শঙ্কর ঘোষের মন্ত্রী হওয়া, অন্যদিকে প্রথমবার বিধায়ক হয়েই গার্গী দাস ঘোষের প্রতিমন্ত্রী পদ লাভ—দুটি ঘটনাই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ পেল দুই মন্ত্রী, বাড়ল জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর মুর্শিদাবাদ জেলা রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জেলার দুই বিজেপি বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্তবর্তী ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্বেরই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ, আবির খেলা এবং বিজয় মিছিলের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করেছেন। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই স্বীকৃতি মুর্শিদাবাদে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ফল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পুরস্কার গৌরী শঙ্কর ঘোষের মন্ত্রিত্ব
মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ। জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে দলীয় সূত্রের দাবি।মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, মুর্শিদাবাদ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নিরিখেপিছিয়ে রয়েছে এবং সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই হবে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
জিয়াগঞ্জে উৎসবের আবহ, কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
গৌরী শঙ্কর ঘোষের মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জিয়াগঞ্জ শহরে শুরু হয় উদযাপন। ব্যান্ড বাজিয়ে, মিষ্টি বিলিয়ে এবং পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন বিজেপি কর্মীরা।স্থানীয়দের একাংশের মতে, এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ায় ভবিষ্যতে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রথমবার বিধায়ক হয়েই প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ
কান্দি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত গার্গী দাস ঘোষের রাজনৈতিক উত্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি চারবারের বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে পরাজিত করে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। নির্বাচনী জয়ের পরই প্রতিমন্ত্রী পদ পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবেই আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।সোমবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গেরুয়া উত্তরীয় ও হালকা রঙের শাড়িতে উপস্থিত ছিলেন গার্গী দাস ঘোষ। শপথের পর কান্দি এলাকায়ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়।
রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি গার্গী
গার্গী দাস ঘোষের রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর মা ছায়া ঘোষ একসময় রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন।তাই গার্গীর মন্ত্রিত্বকে অনেকেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৩৫ বছর পর কান্দিতে ফিরল মন্ত্রিত্বের গৌরব
কান্দি বিধানসভা কেন্দ্র বহু বছর পর আবার একজন মন্ত্রী পেল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, মন্ত্রিত্বের ফলে এলাকার পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতের ইতিহাস যেন নতুনভাবে ফিরে এসেছে। কারণ অতীতেও কান্দি থেকে প্রথমবার নির্বাচিত এক বিধায়ক মন্ত্রীত্বের সুযোগ পেয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে একসঙ্গে দুই বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ পূর্ণমন্ত্রী এবং কান্দির বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই ঘটনাকে জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির বড় বার্তা হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব।












