অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার তুলতে গিয়ে অ্যাকাউন্টে ৭৫০ কোটির ‘ব্যালান্স’! আতঙ্কে থানায় ছুটলেন মুর্শিদাবাদের গৃহবধূ

মুর্শিদাবাদের লালগোলায় অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে গৃহবধূর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭৫০ কোটির বেশি ব্যালান্স দেখা যায়। আতঙ্কে থানায় অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির ইঙ্গিত পুলিশের।

মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার কালিকাপুর গ্রামের এক দিনমজুর পরিবারের গৃহবধূ শিরিফা খাতুন অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হন, যা মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দেয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭৫০ কোটিরও বেশি টাকা দেখানোর পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং ওই টাকা সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান।

৩ হাজার টাকার বদলে অ্যাকাউন্টে শত শত কোটি!

শিরিফা খাতুন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী হিসেবে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত করেছিলেন। শনিবার ভাতা এসেছে কি না দেখতে একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গেলে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যালান্স দেখাচ্ছে।

অপ্রত্যাশিত এই তথ্য শুনে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি ও তাঁর পরিবার।

'আমরা দিন আনি দিন খাই'—কী বললেন গৃহবধূ?

শিরিফা খাতুন জানান, তাঁদের পরিবার দিনমজুরির আয়ের উপর নির্ভরশীল।

তাঁর কথায়, পরিবারের কেউ কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাই হঠাৎ এত বিপুল অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে দেখানোর ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে যান। স্বামীর পরামর্শে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই লালগোলা থানায় গিয়ে গোটা বিষয়টি জানান এবং ওই টাকা সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেন।

পরিবারও তোলেনি এক টাকাও

শিরিফার শাশুড়ি আছিয়া বিবি জানান, তাঁদের সাত ছেলে সবাই দিনমজুর। আর্থিক অনটনের কারণে এখনও কেউ নিজের বাড়ি তৈরি করতে পারেননি।

তিনি বলেন, চিকিৎসার টাকারও অভাব রয়েছে। তা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা দেখা গেলেও পরিবারের কেউ তা তোলার চেষ্টা করেননি। বরং প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আগেও ঘটেছে একই ধরনের ঘটনা

এর আগে উত্তরবঙ্গের ফালাকাটা ও ময়নাগুড়িতেও দুই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েকশো কোটি টাকা দেখানোর খবর সামনে আসে। তাঁদের অ্যাকাউন্টও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নথিভুক্ত ছিল বলে জানা যায়।

তবে এই ঘটনাগুলির সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের অর্থপ্রদান সরাসরি যুক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

পুলিশ কী জানাল?

লালগোলা থানার এক আধিকারিক জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে কিছু গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক ব্যালান্স প্রদর্শিত হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের কাজ শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

গ্রাহকদের জন্য কী পরামর্শ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক বা ভুল ব্যালান্স দেখা যায়, তাহলে—

সেই টাকা তোলার বা ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না।

দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করুন।

প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন।

প্রতারণার আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় থানাকেও বিষয়টি জানান।

অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা তুলতে গিয়ে অবাক মুর্শিদাবাদের লালগোলার শিরিফা খাতুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭৫০ কোটিরও বেশি টাকা দেখানোর পর তিনি তা ব্যবহার না করে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানান। প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি, সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণেই এমন অস্বাভাবিক ব্যালান্স দেখা গিয়েছে।

Leave a comment