ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদ বারবার চমকে দেয় তার অতীতের অমূল্য সম্পদ দিয়ে। এবার বহরমপুর শহরের কাদাই এলাকায় রাস্তা চওড়া করার কাজ চলাকালীন মাটির গভীর থেকে উঠে এল একটি বিশালাকার কামান। দীর্ঘদিন মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা এই সামরিক নিদর্শন ঘিরে কৌতূহল ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে ইতিহাস গবেষকদের মধ্যেও।
রাস্তার কাজেই মিলল ঐতিহাসিক আবিষ্কার
বহরমপুর পৌরসভার অধীনে কাদাই এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছিল। নির্মাণকর্মীরা জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার সময় হঠাৎই শক্ত ধাতব বস্তুর অস্তিত্ব টের পান। এরপর সতর্কতার সঙ্গে খনন চালাতেই বেরিয়ে আসে প্রায় ৭ ফুট দীর্ঘ একটি বিশাল কামান। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায় এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসাহী মানুষজন।
নবাবি আমলের সামরিক শক্তির নিদর্শন?
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও স্থানীয়দের ধারণা, উদ্ধার হওয়া কামানটি নবাবি আমলের হতে পারে। একসময় বাংলার রাজধানী ছিল Murshidabad। নবাবদের সেনাবাহিনীতে বড় বড় কামানের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলাশির যুদ্ধ এবং ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘটিত নানা সংঘর্ষে এই ধরনের কামান ব্যবহৃত হত।
জং ধরলেও অটুট গঠন
দীর্ঘদিন মাটির নীচে থাকার ফলে কামানটির গায়ে জং ধরেছে। তবে এর মূল কাঠামো এখনও যথেষ্ট অক্ষত রয়েছে। ভারী লোহার তৈরি এই কামানটির নির্মাণশৈলী এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিহাস মহলে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে তদন্তের দায়িত্ব
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কামানটিকে আপাতত খাগড়া ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল এসে কামানটির সময়কাল, নির্মাণ পদ্ধতি এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
মুর্শিদাবাদের কামান ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
মুর্শিদাবাদে কামানের ইতিহাস বহু পুরনো। Katra Masjid-এর তোপখানায় সংরক্ষিত বিখ্যাত Jahan Kosha Cannon আজও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। একইভাবে Hazarduari Palace-এর সামনে থাকা বিখ্যাত ‘বাচ্ছাওয়ালি তোপ’-ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। সদ্য উদ্ধার হওয়া কামানটি সেই ঐতিহ্যেরই আরেক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলাকালীন মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৭ ফুট দীর্ঘ একটি প্রাচীন কামান। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি নবাবি আমলের সামরিক নিদর্শন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, আর ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ।










