পর্দায় কয়েক মিনিটের উপস্থিতিতেই দর্শকদের হাসাতে পারতেন মুশতাক খান। ‘আশিকি’, ‘সড়ক’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘বাপ নম্বরি বেটা দশ নম্বরি’, ‘গদর ২’ কিংবা ‘স্ত্রী ২’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু অভিনয় জীবনের বাইরে তাঁর নিজের জীবনেও এসেছিল এমন এক ভয়াবহ রাত, যার কথা মনে পড়লে শিউরে উঠতে হয়। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠান করার প্রস্তাবের নামে অপহৃত হয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্দি ছিলেন অভিনেতা।
২০২৪ সালের নভেম্বরেই অপহরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ নভেম্বর ২০২৪ মুশতাক খানকে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার প্রস্তাবের কথা বলে তাঁকে দিল্লি-মিরাট মহাসড়ক থেকে একটি গাড়িতে তোলা হয়।কিন্তু অনুষ্ঠানের জায়গায় না নিয়ে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের বিজনোরের কাছে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শুরু হয় বন্দিদশা।
১২ ঘণ্টা ধরে মারধরের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণকারীরা অভিনেতাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিনেতার জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় বন্দি থাকার পর সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
আজানের শব্দ অনুসরণ করে পালান
ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল তাঁর পালিয়ে আসার ঘটনা। ভোরের দিকে আজানের শব্দ শুনতে পান মুশতাক। সেই শব্দের দিক অনুসরণ করে তিনি বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এরপর স্থানীয়দের সাহায্যে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছতে সক্ষম হন অভিনেতা। পরে পুরো ঘটনা নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়।
প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল টিকিট ও CCTV ফুটেজ
অপহরণের ঘটনার পর মুশতাক পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও প্রমাণ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল তাঁর ফ্লাইটের টিকিট এবং CCTV ফুটেজ।ঘটনার তদন্তে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। প্রতিবেদনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে লাভী পাল ও অর্জুন কর্ণওয়ালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত সার্থক চৌধুরী, সাবিউদ্দিন, আজিম ও শশাঙ্ককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে রয়েছে।
সুনীল পালের অপহরণের সঙ্গেও যোগসূত্র
মুশতাক খানকে অপহরণের প্রায় এক সপ্তাহ আগে কৌতুক অভিনেতা সুনীল পালও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সুনীল পালের স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর মুশতাকও নিজের ঘটনার বিষয়ে এগিয়ে আসেন। এরপর দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তিন দশকের বেশি সময়ের অভিনয় জীবন
মুশতাক খান তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি বিনোদন জগতে কাজ করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘সড়ক’, ‘কালিয়া’, ‘কবজা’, ‘বাপ নম্বরি বেটা দশ নম্বরি’, ‘আদমি’ এবং ‘গুনাহ’।ছোট পর্দাতেও তিনি কাজ করেছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাঁর পরিচিতি বজায় ছিল ‘বাধাই দো’, ‘গদর ২’ এবং ‘স্ত্রী ২’-এর মতো ছবির মাধ্যমে।
৫৬ বছরেই থামল পথচলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল মুশতাক খানের। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।শেষ পর্যন্ত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবীণ কৌতুক অভিনেতা মুশতাক খানের জীবনাবসানের সঙ্গে ফের সামনে এসেছে তাঁর জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একটি পুরস্কার অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজনোরের কাছে একটি নির্জন জায়গায় তাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। পরে ভোরের আজানের শব্দ অনুসরণ করে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের সাহায্যে নিরাপদে পৌঁছন।







