২০, ৩০ না ৪০— কোন বয়সে মিউচুয়াল ফান্ডে কত টাকা SIP করা উচিত? জেনে নিন সম্পূর্ণ হিসেব

মিউচুয়াল ফান্ডে কোন বয়সে কত টাকা SIP করা উচিত? ২০, ৩০ ও ৪০ বছরের জন্য আলাদা বিনিয়োগ কৌশল, কম্পাউন্ডিংয়ের হিসেব ও সঠিক ফান্ড বাছাইয়ের সম্পূর্ণ গাইড জানুন।

চাকরি শুরু করার পর থেকেই অধিকাংশ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘোরে— ঠিক কখন বিনিয়োগ শুরু করা উচিত? অনেকেই মনে করেন বেশি বেতন না হলে বিনিয়োগ করে লাভ নেই। কিন্তু আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ডে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বেশি টাকা নয়, বরং বেশি সময়। কারণ যত তাড়াতাড়ি SIP শুরু করা যায়, তত বেশি কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা মেলে।

২০-এর দশকেই শুরু করলে মিলতে পারে সবচেয়ে বড় সুবিধা

২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ শুরু করলে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ বাড়ানোর সুযোগ থাকে। এই বয়সে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি থাকে।ধরা যাক, মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে অন্তত ২০ শতাংশ অর্থ SIP-এ বিনিয়োগ করা ভাল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা যেতে পারে।যদি ২৫ বছর বয়স থেকে কেউ নিয়মিত ৬ হাজার টাকা SIP করেন এবং গড়ে বছরে ১২ শতাংশ রিটার্ন পান, তাহলে ৬০ বছর বয়সে তাঁর ফান্ড ৩.৫ থেকে ৪ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এখানেই কম্পাউন্ডিংয়ের আসল শক্তি কাজ করে।

এই বয়সে কোন ফান্ডে জোর দেওয়া উচিত?

তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সাধারণত ইকুইটি ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডকে উপযুক্ত মনে করা হয়। যেমন—

Flexi Cap Fund

Index Fund

Large Cap Fund

Mid Cap Fund

তবে শুধুমাত্র দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ডে সব টাকা বিনিয়োগ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

৩০-এর দশকে বাড়ে দায়িত্ব, বদলাতে হয় কৌশল

৩০ বছর পার হওয়ার পর সংসার, বাড়ির EMI, সন্তানের পড়াশোনা— নানা আর্থিক দায়িত্ব বাড়তে শুরু করে। ফলে এই সময় বিনিয়োগের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি হয়ে পড়ে।যদি মাসিক বেতন ৮০ হাজার টাকা হয়, তাহলে অন্তত ২৫ শতাংশ অর্থ অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার টাকা SIP করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। ৩২ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে এবং ১২ শতাংশ গড় রিটার্ন পেলে অবসরের সময় প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি হতে পারে।

শুধুই Small Cap নয়, পোর্টফোলিওতে দরকার ভারসাম্য

অনেক বিনিয়োগকারী বেশি লাভের আশায় শুধুমাত্র স্মল ক্যাপ ফান্ডে জোর দেন। কিন্তু ৩০-এর দশকে পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যপূর্ণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে—

Hybrid Fund

Large Cap Fund

Flexi Cap Fund

এই ধরনের ফান্ডের মিশ্রণ ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৪০-এর পর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপত্তা

৪০ বছর পার হওয়ার পর শুধু সম্পদ বৃদ্ধি নয়, সেই সম্পদকে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ধরা যাক, মাসিক আয় ১.৫ লক্ষ টাকা। সেক্ষেত্রে অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থ অর্থাৎ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা SIP করা যেতে পারে। যদি ৪২ বছর বয়স থেকে এই বিনিয়োগ শুরু হয় এবং ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে ৬০ বছর বয়সে প্রায় ২ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি হতে পারে।

এই বয়সে কোন ফান্ড তুলনামূলক নিরাপদ?

৪০-এর পর পুরো অর্থ উচ্চ ঝুঁকির ইকুইটি ফান্ডে রাখা ঠিক নয়। বরং ইকুইটি ও ডেট— দুইয়ের ভারসাম্য রাখা দরকার। এই সময় তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয়—

Balanced Advantage Fund

Short Duration Debt Fund

Hybrid Fund

এতে বাজারে বড় পতন এলেও পোর্টফোলিও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নেওয়ার সময় কী দেখবেন?

শুধু এক বছরের রিটার্ন দেখে ফান্ড বেছে নেওয়া উচিত নয়। অন্তত ৫ থেকে ৭ বছরের পারফরম্যান্স দেখা জরুরি। পাশাপাশি—

Expense Ratio

Fund Manager-এর অভিজ্ঞতা

বাজার পড়ার সময় ফান্ডের আচরণ

নিজের আর্থিক লক্ষ্য

এই বিষয়গুলিও খেয়াল রাখা দরকার।

কোন ভুলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি ভুল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়—

বিনিয়োগ শুরু করতে দেরি করা

বাজার পড়লেই আতঙ্কে টাকা তুলে নেওয়া

সোশ্যাল মিডিয়ার পরামর্শে বিনিয়োগ করা

বারবার ফান্ড বদলানো

মিউচুয়াল ফান্ডে তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করলে কম্পাউন্ডিংয়ের জোরে দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্পদ তৈরি করা সম্ভব। বয়সভেদে কত শতাংশ আয় বিনিয়োগ করা উচিত, কোন ফান্ড বেছে নেওয়া ভাল এবং কোন ভুলগুলি এড়ানো দরকার— সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

Leave a comment