কয়েক দিন আগে সামাজিক মাধ্যমে রসিকতার আকারে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এখন একটি বড় ডিজিটাল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে এর অনুসারীর সংখ্যা ১.৫ কোটি (১৫ মিলিয়ন) অতিক্রম করেছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত বিজেপির সরকারি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলের প্রায় ৮৭ লক্ষ অনুসারী এবং কংগ্রেসের প্রায় ১.৩৩ কোটি অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই “পার্টি” এখন ইন্টারনেটে আলোচনার একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) একটি ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক আন্দোলন, যা কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গঠিত হয়নি। এটি নিজেকে “বেকার এবং ব্যবস্থার প্রতি অসন্তুষ্ট যুবকদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে উপস্থাপন করে। এই আন্দোলনে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, পরীক্ষাব্যবস্থার চাপ এবং সামাজিক অসন্তোষের মতো বিষয়গুলি মিম ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
এই আন্দোলনের সমর্থকেরা নিজেদের “ককরোচ” বলে পরিচয় দেন এবং প্রতীক হিসেবে ককরোচ ইমোজি ব্যবহার করেন। এই স্বতন্ত্র পরিচিতি দ্রুত ভাইরাল হতে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ডিজিটাল আন্দোলনের সূচনা ১৬ মে সামাজিক মাধ্যমে হয়। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট এবং অনলাইন মিম ট্রেন্ড হিসেবে শুরু হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ইন্টারনেটভিত্তিক রসিকতা ও সৃজনশীল কনটেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এটি বড় অনলাইন আন্দোলনে রূপ নেয়।
প্রতিবেদনগুলিতে রাজনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত কৌশলবিদ অভিজিৎ ডিপকের নাম এর সঙ্গে জড়িত বলে উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, তিনি এটি একটি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে শুরু করেছিলেন। শুরুতে এটিকে হালকা ব্যঙ্গ হিসেবে দেখা হলেও পরে তা দ্রুত বিস্তৃত হয়।

CJP-এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে এর ইন্টারনেট-ভিত্তিক পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে। এই আন্দোলনে কোনও সমাবেশ, প্রচলিত সাংগঠনিক কাঠামো বা আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। পুরো কার্যক্রম ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে মিম, রিল ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তরুণদের, বিশেষত জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে এটি দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, কারণ এটি বেকারত্ব, পরীক্ষার চাপ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মতো বিষয়কে হালকা ও হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরে। সমর্থকদের মতে, এটি বিনোদনের পাশাপাশি ডিজিটাল অভিব্যক্তির একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে।
সম্প্রতি CJP-এর এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে নিষিদ্ধ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এরপর এর প্রতিষ্ঠাতারা “Cockroach Is Back” নামে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট চালু করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাতে হাজার হাজার মানুষ যুক্ত হন।
এই ডিজিটাল আন্দোলন রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন বিরোধী নেতা ও সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব এই ট্রেন্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিছু নেতা একে যুবসমাজের অসন্তোষের প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে নতুন ডিজিটাল ন্যারেটিভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সমালোচনারও মুখে পড়েছে এই উদ্যোগ। প্রশ্ন উঠেছে, এটি শুধুমাত্র একটি মিম প্রচারাভিযান, নাকি এর পেছনে কোনও সংগঠিত রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে।
ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েবসাইট এবং অনলাইন কনটেন্ট সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মক ও মিম-ধর্মী শৈলীতে তৈরি করা হয়েছে। সদস্য হওয়ার শর্তগুলিও রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেকার হওয়া, সবসময় অনলাইনে থাকা, মিম বোঝার সক্ষমতা এবং ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করার দক্ষতা।
CJP-কে ঘিরে মূল প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে, এটি কি কেবল একটি ইন্টারনেট মিম, নাকি নতুন ধরনের ডিজিটাল রাজনীতির সূচনার ইঙ্গিত। এর সমর্থকেরা একে যুবকদের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা এটিকে অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট ন্যারেটিভ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।












