বড়দিনে বাস্তবের সান্তা হাজির নদিয়ায়! ইটভাটার শ্রমিকদের হাতে বস্তা ভরা উপহার, হাসিতে ভরল মুখ

ক্রিসমাস ২০২৫-এ নদিয়ার রানাঘাটে সান্তা সেজে ইটভাটার শ্রমিক পরিবারগুলির হাতে উপহার তুলে দিল স্বেচ্ছাসেবীরা। মানবিক বড়দিনের সম্পূর্ণ ছবি জানুন।

বড়দিন মানেই কি শুধু কেক কাটা আর আলো ঝলমল সাজ? নদিয়ার রানাঘাটে এবারের ক্রিসমাস প্রমাণ করল, বড়দিন আসলে মানবিকতার উৎসব। সান্তা সেজে ইটভাটার শ্রমিকদের মাঝে হাজির হয়ে উপহারের বস্তা বিলিয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা—আর তাতেই শ্রমজীবী মানুষদের মুখে ফুটে উঠল চওড়া হাসি।

রূপকথার সান্তা নয়, বাস্তবের সান্তার দেখা

লোককথা বলে, বড়দিনের রাতে সান্তা নাকি ঘুমন্ত শিশুদের জন্য উপহার রেখে যায়। তবে নদিয়ার রানাঘাটে দেখা গেল বাস্তবের সান্তাদের—লাল জামা, লাল টুপি পরে, ঝুলি ভর্তি উপহার হাতে ইটভাটার শ্রমিকদের মাঝে হাজির।

বিকল্প ভাবনায় বড়দিন উদযাপন

রানাঘাটের রামনগর নবজাগরণ সংঘ ও লাইব্রেরি এ বছর বড়দিন উদযাপনে বেছে নেয় ভিন্ন পথ। কেক কাটা বা আনুষ্ঠানিক উৎসবের বদলে সমাজের সেই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা, যাঁরা চাইলেও উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পারেন না।

ইটভাটার শ্রমিকদের মাঝেই উপহারের ঢালি

ভিন রাজ্য থেকে কাজের সন্ধানে আসা ইটভাটার শ্রমিক পরিবারগুলির মাঝেই সান্তা সেজে পৌঁছে যান স্বেচ্ছাসেবীরা। কেকের সঙ্গে তুলে দেওয়া হয় শীতের চাদর, বিস্কুট ও শিশুদের জামাকাপড়। উপহার পেয়ে শ্রমিকদের চোখেমুখে ধরা পড়ে অপার আনন্দ।

৩২টি পরিবারে পৌঁছল বড়দিনের উপহার

এই মানবিক উদ্যোগে মোট ৩২টি শ্রমিক পরিবারের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট থানার আইসি তন্ময় ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা। গোটা কর্মসূচি জুড়ে ছিল উৎসব ও সহমর্মিতার আবহ।

‘সবারই ইচ্ছে থাকে, সবার সামর্থ্য থাকে না’

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বড়দিনে সকলেরই ইচ্ছে করে নতুন জামা, উপহার ও কেক খেতে। কিন্তু অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। সেই মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ।

ক্রিসমাস ২০২৫-এ নদিয়ার রানাঘাটে মানবিকতার অনন্য ছবি। সান্তা সেজে ইটভাটার শ্রমিক পরিবারগুলির হাতে কেক, শীতের চাদর ও শিশুদের পোশাক তুলে দিল রামনগর নবজাগরণ সংঘ ও লাইব্রেরি। বড়দিনে খুশির আলো ছড়াল ৩২টি পরিবারে।

Leave a comment