পূর্ব বর্ধমান: বাঙালির মিষ্টির তালিকায় ঐতিহ্যের জায়গা করে নেওয়া নিগনের মণ্ডাতেও এবার মূল্যবৃদ্ধির আঁচ। মণ্ডা তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সেই চাপ সামলাতে বাধ্য হয়ে দাম বাড়িয়েছেন একাংশ ব্যবসায়ী। ফলে ৫ টাকার মণ্ডা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকায়, আর ১০ টাকার বড় মণ্ডার দাম বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা। কোথাও আবার দাম না বাড়িয়ে মণ্ডার আকার কিছুটা ছোট করার পথ নিয়েছেন কারিগররা।
চিনির দাম বাড়তেই বাড়ল মণ্ডার খরচ
নিগনের মণ্ডা শুধু একটি মিষ্টি নয়, পূর্ব বর্ধমানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু মণ্ডা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে।আগের দামে মণ্ডা বিক্রি করে সেই বাড়তি খরচ সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনেকেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৫ টাকার মণ্ডা এখন ৬ টাকা
দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে ক্রেতাদের পকেটে। আগে যে মণ্ডা ৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম হয়েছে ৬ টাকা। অন্যদিকে, ১০ টাকার বড় মণ্ডার দাম বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা।তবে সব ব্যবসায়ী সরাসরি দাম বাড়ানোর পথে হাঁটেননি। কিছু দোকানে পুরনো দামই রাখা হয়েছে, কিন্তু মণ্ডার আকার আগের তুলনায় ছোট করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একই টাকা খরচ করলেও ক্রেতারা পাচ্ছেন তুলনায় কম মিষ্টি।
দাম বাড়ায় বিক্রিতেও প্রভাব
মণ্ডার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও। অনেক ক্রেতাই এখন আগের তুলনায় কম পরিমাণে মিষ্টি কিনছেন। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বিক্রির পরিমাণ কমার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।এক মণ্ডা বিক্রেতার বক্তব্য অনুযায়ী, চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে মণ্ডা বিক্রি করলে লাভ প্রায় থাকছে না। আবার দাম বাড়ালে ক্রেতারা কম কিনছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের সামনে তৈরি হয়েছে উভয় সংকট।
স্বাদ-ঐতিহ্যের টানে চাহিদা এখনও রয়েছে
দাম বাড়লেও নিগনের মণ্ডার জনপ্রিয়তায় এখনও খুব একটা ভাটা পড়েনি। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং স্বতন্ত্র স্বাদের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে এই মিষ্টির চাহিদা রয়েছে।তবে সাধারণ মানুষেরও এখন বাজার খরচ সামলে চলতে হচ্ছে। ফলে আগের মতো বেশি পরিমাণে মণ্ডা না কিনে অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী কম কিনছেন।
সামনে আরও বড় চিন্তা ব্যবসায়ীদের
চিনির দাম যদি দীর্ঘদিন এভাবে চড়া থাকে, তাহলে নিগনের ঐতিহ্যবাহী মণ্ডা ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। কারণ দাম বাড়ালে ক্রেতা কমার আশঙ্কা, আবার দাম না বাড়ালে ব্যবসায়ীদের লাভের মার্জিন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। চিনির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে মণ্ডা তৈরির খরচও কমবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
চিনির দাম বাড়ায় পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী নিগনের মণ্ডা তৈরির খরচও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথাও মণ্ডার দাম বাড়ানো হয়েছে, আবার কোথাও একই দাম রেখে আকার ছোট করা হয়েছে। ফলে মিষ্টিপ্রেমীদের পকেটে পড়ছে বাড়তি চাপ।












