বাজারে বাড়তে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন বাজারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বহরমপুরের কাশিমবাজার, মনীন্দ্রনগর, জর্জকোট থেকে শুরু করে রঘুনাথগঞ্জের একাধিক বাজারে আচমকা পরিদর্শনে যান সরকারি আধিকারিকরা। দোকানে দোকানে ঘুরে খতিয়ে দেখা হয় পণ্যের দাম ও কেনাবেচার নথি।
কোন কোন বাজারে চলল অভিযান?
বহরমপুর ও রঘুনাথগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাইকারি ও খুচরো বিক্রেতাদের দোকানে পরিদর্শন চালানো হয়। অভিযানে ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক, বহরমপুর সদর মহকুমা প্রশাসনের কর্মী এবং পুলিশকর্মীরা। কৃষি বিপণন দফতরের আধিকারিকরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।পাইকারি বাজার থেকে মুদিখানার দোকান—বিভিন্ন স্তরে পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা।
শুধু চিনি নয়, নজরে একাধিক নিত্যপণ্য
প্রশাসনের নজরে ছিল শুধু চিনির দাম নয়। আলু, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, আদা, রসুনের মতো আনাজের পাশাপাশি ডাল, তেল, চিনি-সহ বিভিন্ন মুদিখানার সামগ্রীর দামও খতিয়ে দেখা হয়।এর ফলে কোনও পণ্য পাইকারি বাজার থেকে কত দামে কেনা হচ্ছে এবং কত দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, সেই হিসাবও যাচাই করা হয়।
ব্যবসায়ীদের কী নির্দেশ দেওয়া হল?
প্রশাসনের তরফে ব্যবসায়ীদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, পাইকারি বাজার থেকে যে দামে পণ্য কেনা হচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নিয়ম মেনে খুচরো বিক্রি করতে হবে।পাশাপাশি প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে পণ্যের চালান, ক্রয়মূল্য এবং বিক্রয়মূল্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিকবেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নিয়মিত বাজারে নজরদারি চালানোর বার্তা
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে অকারণে বাড়ানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও বাজার পরিদর্শন চলবে। ব্যবসায়ীদেরও ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের হিসাব স্বচ্ছ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ, আচমকা অভিযানেই বিষয়টি থেমে থাকছে না। বাজারদরের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
স্বস্তির আশায় সাধারণ ক্রেতারা
চিনি, আনাজ থেকে শুরু করে রান্নাঘরের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে থাকায় চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজারের খরচ অনেকটাই বেড়েছে বলে ক্রেতাদের একাংশের দাবি।প্রশাসনের এই তৎপরতায় যদি বাজারে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতা কমে, তাহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলেই আশা ক্রেতাদের।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ও রঘুনাথগঞ্জের একাধিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক অভিযান চালানো হল। আলু, পেঁয়াজ, চিনি, ডাল, তেল-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। ব্যবসায়ীদের চালান ও ক্রয়মূল্যের নথি সঠিকভাবে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












