Desire For Wife: স্ত্রীকে ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা! ‘কালাজাদু’র নামে ভয়ঙ্কর কাণ্ড, ওড়িশায় খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৫

ওড়িশার বোলাঙ্গিরে সন্তোষ খারসেল হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিচ্ছিন্ন স্ত্রীকে ফিরে পেতে কথিত কালাজাদু ও নরবলির পরিকল্পনার অভিযোগ। গ্রেফতার ৫।

স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই কি এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ? ওড়িশার বোলাঙ্গিরে ৪০ বছরের সন্তোষ খারসেলকে হত্যার ঘটনায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রথমে রাতের খাবারের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর সন্তোষকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর দেহের একটি অংশ ফেলে দেওয়া এবং মাথাটি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে কথিত কালাজাদু ও নরবলির তত্ত্ব সামনে আসায় আরও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা?

ঘটনাটি ঘটে ১৮ অগাস্ট। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪০ বছর বয়সি সন্তোষ খারসেলকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজের জন্য ডেকেছিলেন শত্রুঘ্ন সাহু। অভিযোগ, খাওয়াদাওয়া শেষ হওয়ার পর সন্তোষ ঘুমিয়ে পড়লে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।পরে গ্রামের বাইরে একটি পুকুরের কাছে মুণ্ডহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই শুরু হয় তদন্ত।

প্রথমে ‘মদের ঝামেলা’র কথা বলেছিলেন অভিযুক্ত

তদন্তের শুরুতে শত্রুঘ্ন দাবি করেছিলেন, মদ্যপান নিয়ে বিবাদের জেরেই সন্তোষকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।এরপর তদন্তকারীদের কাছে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জায়গা থেকে সন্তোষের মাথা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সামনে এল ‘কালাজাদু’র তত্ত্ব

পুলিশের তদন্তে বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিবাদে সীমাবদ্ধ নয় বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কথিত তুকতাক, জাদুবিদ্যা এবং নরবলির সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শত্রুঘ্ন জানিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর বিচ্ছিন্ন স্ত্রীকে আবার নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই সন্তোষকে বলি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।তবে কালাজাদু বা নরবলির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্রের অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

১০ বছর ধরে স্ত্রীর সঙ্গে আলাদা ছিলেন

তদন্তকারীদের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, শত্রুঘ্নের স্ত্রী প্রায় ১০ বছর ধরে তাঁর থেকে আলাদা থাকতেন। তাঁদের সন্তানরাও মায়ের সঙ্গেই থাকতেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই এই ভয়াবহ অপরাধের পিছনে কাজ করেছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। পাশাপাশি, অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা কী ছিল, তারও খোঁজ চলছে।

গ্রেফতার ৫, চলছে তদন্ত

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শত্রুঘ্ন সাহু-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মা, ভাই এবং বৌদিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।পুলিশ ঘটনার পুরো ক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। সন্তোষকে হত্যার পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, একা নাকি একাধিক ব্যক্তি মিলে তা করা হয়েছিল এবং কথিত কুসংস্কারের ভূমিকা কতটা ছিল—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওড়িশার বোলাঙ্গিরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিচ্ছিন্ন স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই কুসংস্কার ও কথিত তন্ত্রসাধনার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Leave a comment