গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ওম পুরী! ভেঙেছিল ৮ মাসের সংসার, মৃত্যুর আগে চেয়েছিলেন ক্ষমা

গর্ভবতী স্ত্রী সীমা কাপুরকে রেখে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ, আট মাসেই ভেঙে যায় সংসার। মৃত্যুর আগে ক্ষমা চেয়েছিলেন ওম পুরী—জানুন সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের বিস্তারিত।

বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতাদের তালিকায় ওম পুরীর নাম প্রথম সারিতেই থাকে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অধ্যায় আজও চর্চিত। স্ত্রী সীমা কাপুর যখন অন্তঃসত্ত্বা, তখনই অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিনেতা—এমনই অভিযোগ করেছিলেন সীমা। সেই ঘটনার জেরে মাত্র আট মাসের মাথায় ভেঙে যায় তাঁদের সংসার। বহু বছর পরে জীবনের শেষদিকে ফোন করে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন ওম পুরী।

অভিনয়ের আড়ালে বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবন

ওম পুরী ভারতীয় সিনেমায় অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বারবার শিরোনামে এসেছে বিবাহ, বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের নানা বিতর্ককে ঘিরে। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

‘সিটি অব জয়’-এর শুটিং থেকেই বদলে যায় সম্পর্ক

সীমা কাপুরের দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর প্রথমদিকে তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ‘সিটি অব জয়’ ছবির শুটিং চলাকালীন অভিনেতার পরিচয় হয় সাংবাদিক নন্দিতার সঙ্গে। সেখান থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ।সীমার কথায়, আশপাশের অনেকেই বিষয়টি জানলেও তাঁকে কেউ কিছু জানাননি। কারণ, অনেকে ভেবেছিলেন সম্পর্কটি সাময়িক।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফোনে জানিয়েছিলেন সম্পর্কের কথা

প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পারলেও, পরে অভিনেতার আচরণ ও কথাবার্তা শুনে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন তিনি।

বিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি সীমা

মুম্বই ফিরে এসে সীমা কাপুর সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাড়িতে প্রেমপত্র খুঁজে পাওয়ার পর তাঁর সেই আশা ভেঙে যায়।তিনি জানান, সন্তানসম্ভবা অবস্থায়ও তিনি বিবাহবিচ্ছেদ চাননি। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, সে সময় ওম পুরী অতিরিক্ত মদ্যপান করতেন এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে থাকে।

সংসার ভাঙন, সন্তানের মৃত্যু এবং দীর্ঘ মানসিক যন্ত্রণা

অবশেষে মাত্র আট মাসের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন সীমা কাপুর। তখন তিনি প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের অনাগত সন্তানও বাঁচেনি।সীমার দাবি, এই কঠিন সময়ে ওম পুরী ব্যক্তিগতভাবে পাশে দাঁড়াননি। পরে ম্যানেজারের মাধ্যমে কিছু অর্থ পাঠালেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভরণপোষণ বাবদ অর্থ পেলেও, তাঁর মতে সেই ক্ষতি কোনও অর্থেই পূরণ হওয়ার নয়।

মৃত্যুর আগে শেষবার ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেতা

দীর্ঘ সময় কোনও যোগাযোগ না থাকলেও, মৃত্যুর কিছুদিন আগে ওম পুরী নাকি নিজেই সীমা কাপুরকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপে নিজের অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে সীমা পরে এক সাক্ষাৎকারে জানান।২০১৭ সালে ৬৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন ওম পুরী। তবে তাঁর অভিনয় যেমন আজও দর্শকের মনে অমলিন, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনের এই বিতর্কিত অধ্যায়ও সময়ে সময়ে আলোচনায় ফিরে আসে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ওম পুরীর অভিনয়জীবন যতটা উজ্জ্বল ছিল, ব্যক্তিগত জীবন ততটাই বিতর্কে ঘেরা। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা কাপুরকে রেখে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ, দাম্পত্য ভাঙন, সন্তানের মৃত্যু এবং বহু বছর পরে ক্ষমা চাওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায় ফের আলোচনায় এসেছে।

Leave a comment