অনলাইন শপিং এখন দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে বিজ্ঞাপনের আড়ালে যে কত বড় প্রতারণার ফাঁদ লুকিয়ে থাকতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ সামনে এল বীরভূমের সিউড়ি থেকে। ইনস্টাগ্রামে দেখা একটি বুটিক পেজ থেকে শাড়ি অর্ডার করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন স্থানীয় এক তরুণী।
ইনস্টাগ্রামের বুটিকেই আস্থা, সেখানেই ধাক্কা
বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা কোয়েল দাস সরস্বতী পুজোর জন্য গত ১৫ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামের ‘দেবী বুটিক’ নামের একটি পেজ থেকে একটি শাড়ি পছন্দ করেন। পেজটির ছবি, রিল ও প্রেজেন্টেশন অত্যন্ত পেশাদার হওয়ায় কোনও সন্দেহ না করেই অগ্রিম টাকা পাঠিয়ে অর্ডার কনফার্ম করেন তিনি।
ডেলিভারির নামে শুরু টালবাহানা
অর্ডার দেওয়ার পর থেকেই সমস্যার শুরু। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শাড়ি না পৌঁছনোয় কোয়েল বারবার ট্র্যাকিং আইডি চান। অভিযোগ, বুটিক কর্তৃপক্ষ কোনও ট্র্যাকিং নম্বর দিতে পারেনি। উলটে জানানো হয়, কুরিয়ার সংস্থা ‘ব্লুডার্ট’ থেকে ফোন এলে পার্সেল বাতিল করতে হবে, তবেই টাকা ফেরত মিলবে। কিন্তু বাস্তবে কোনও কুরিয়ার সংস্থা থেকেই ফোন আসেনি।
ফোন করতেই অশালীন আচরণ, হুমকি!
প্রতারণার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন কোয়েল পেজে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। অভিযোগ, ফোন ধরেই এক ব্যক্তি অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং বিদ্রূপ করে জানান, সেখানে নাকি শাড়ি নয়—“আলু-পটল-ভেন্ডি” বিক্রি হয়। আইনি পদক্ষেপের কথা বলতেই ওই নম্বর থেকে বারবার ফোন করে তরুণীকে উত্যক্ত করা শুরু হয়।
টাকা ফেরতের আশা শেষ, যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ
সরস্বতী পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফের টাকা ফেরতের দাবি জানালে প্রথমে সময় চাওয়া হলেও পরে কোয়েলকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ কল বা ইনস্টাগ্রাম মেসেজ—কোনও কিছুরই উত্তর মিলছে না। কোয়েলের দাবি, তাঁর মতো আরও বহু মানুষ এই সুসজ্জিত বুটিক পেজের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন।

অভিজ্ঞতা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবার্তা
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন কোয়েল দাস।
কী বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা?
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্ডার দেওয়ার আগে অবশ্যই পেজের কমেন্ট, রিভিউ, পুরনো পোস্ট ও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা উচিত। শুধুমাত্র ঝকঝকে ছবি বা কম দামের প্রলোভনে পড়ে অগ্রিম টাকা পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ইনস্টাগ্রামের আকর্ষণীয় বুটিক পেজ দেখে শাড়ি অর্ডার করে প্রতারণার শিকার হলেন বীরভূমের এক তরুণী। অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর না মিলেছে শাড়ি, না ফেরত এসেছে টাকা। ফোন করলে মিলেছে অশালীন আচরণ ও হুমকি। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক অনলাইন শপিংয়ের ঝুঁকি আরও একবার সামনে আনল।











