রজৌনে অবৈধ নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযানের আশঙ্কায় একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

রজৌন ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের আশঙ্কায় একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর তদন্ত অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লাইসেন্স ও নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
রজৌনে অবৈধ নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযানের আশঙ্কায় একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ
Photo Credit / Attribution: google

প্রশাসনিক কঠোরতার আশঙ্কায় অবৈধভাবে পরিচালিত একাধিক নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু পরিচালনাকারী তাদের প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে এলাকা ত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের সম্ভাব্য অভিযানের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন স্থানে ক্লিনিকের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে রাতারাতি শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়।

অবৈধ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রজৌন ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নিবন্ধন ও নির্ধারিত মানদণ্ড ছাড়া বহু ছোট-বড় নার্সিং হোম পরিচালিত হচ্ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের স্থায়ী নিয়োগও ছিল না। একাধিক ক্ষেত্রে কম্পাউন্ডার বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ জমা পড়ছিল।

তদন্ত দল গঠন ও সম্ভাব্য অভিযান

সম্প্রতি দপ্তরীয় পর্যায়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের অবৈধ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটি এলাকায় সক্রিয় হওয়ার খবর ছড়াতেই পরিচালনাকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেকেই ক্লিনিক বন্ধ করে অন্যত্র চলে যান, আবার কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার নোটিস টাঙিয়ে দেন।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ নার্সিং হোমে রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি আদায় করা হতো। সামান্য চিকিৎসার নামে উচ্চ বিল দেওয়া হতো। একাধিক ক্ষেত্রে গুরুতর রোগীকেও ভর্তি করা হয়েছে, যদিও সেখানে আইসিইউ বা জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা ছিল না। এ ধরনের অব্যবস্থাপনায় রোগীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন ও স্বীকৃতি ছাড়া চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান আইনবিরুদ্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। উপযুক্ত সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে সংক্রমণ ও জটিলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

প্রশাসনের অবস্থান

প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের কাছে বৈধ লাইসেন্স, নিবন্ধন সনদ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে ভারী জরিমানা, সিল করা এবং আইনগত মামলা দায়েরের পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তালিকা প্রস্তুতি ও যৌথ অভিযান পরিকল্পনা

স্বাস্থ্য দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলির তালিকা প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযানের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে পলাতক পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা যায়।

জনসচেতনতা ও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান

ঘটনাপ্রবাহের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সামাজিক সংগঠন প্রশাসনিক পদক্ষেপের সমর্থন জানিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবায় অনিয়ম বরদাস্ত না করার দাবি জানিয়েছে এবং নিয়মিত পরিদর্শন ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে।

প্রশাসন নাগরিকদের শুধুমাত্র নিবন্ধিত ও স্বীকৃত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো সন্দেহজনক চিকিৎসা কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

রজৌনে অবৈধ নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী দিনে তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যাতে এলাকায় অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

Leave a comment