উত্তর প্রদেশের কানপুরে একটি সংগঠিত কিডনি র্যাকেটের ঘটনা তদন্তে প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে যুবকদের অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে তাদের কিডনি অপসারণ করা হতো। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখছে।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা প্রথমে অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে যুবকদের টার্গেট করত। শুরুতে ছোট গেমে জিতিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা হতো। পরে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের বাজিতে অংশ নিতে প্রলুব্ধ করা হতো, যেখানে যুবকেরা বড় অঙ্কের অর্থ হারাতেন।
অর্থ হারানোর পর চক্রের সদস্যরা ঋণের প্রস্তাব দিত। ঋণ নেওয়ার পর যুবকেরা এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তেন, যেখান থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত। ঋণের পরিমাণ এবং চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকত।
এই পর্যায়ে চক্রের সদস্যরা যুবকদের বোঝাতে শুরু করত যে ঋণ শোধের সহজ উপায় হলো একটি কিডনি বিক্রি করা। ধীরে ধীরে তাদের মানসিকভাবে এই প্রস্তাবের দিকে ঠেলে দেওয়া হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই র্যাকেটে কিছু চিকিৎসকও জড়িত ছিলেন। তারা যুবকদের বোঝাতেন যে একটি কিডনি নিয়েও স্বাভাবিক ও দীর্ঘ জীবনযাপন সম্ভব এবং এতে স্বাস্থ্যের ওপর কোনো গুরুতর প্রভাব পড়বে না।
পরবর্তীতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন করা হতো। জাল নথি তৈরি করে দেখানো হতো যে কিডনি দান স্বেচ্ছায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে হচ্ছে, যদিও বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি কার্যকলাপ ছিল।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে এটি একক বা সীমিত ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি বৃহৎ সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এতে দালাল, চিকিৎসা কর্মী এবং অন্যান্য সহযোগীরা বিভিন্ন স্তরে জড়িত ছিলেন।
বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটির গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং এই চক্রের বিস্তার কতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছিল তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। আরও গ্রেপ্তার ও নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনলাইন গেমিং এবং ঋণের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।











