নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সি মহিলা বা যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ওভারিয়ান ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না।
কীভাবে শুরু হয় ওভারিয়ান ক্যানসার?
ডিম্বাশয়ের কোষ যখন অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখনই ওভারিয়ান ক্যানসারের সূচনা হয়। এটি নারীদের অন্যতম জটিল ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় রোগটি নীরবে বাড়তে থাকে এবং লক্ষণ প্রকাশ পেতে পেতে দেরি হয়ে যায়।
ঋতুস্রাবে অনিয়ম-সহ যে লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীরই স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তবে রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—
ঋতুস্রাবে অনিয়ম বা মাসিক চক্রের পরিবর্তন
দীর্ঘদিন পেট ফোলা বা অস্বস্তি
তলপেট বা শ্রোণী অঞ্চলে ব্যথা
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন বা কোষ্ঠকাঠিন্য
অতিরিক্ত ক্লান্তি
দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
এই উপসর্গগুলি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
ওভারিয়ান ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৪০ বছরের বেশি বয়স
পরিবারে ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যানসারের ইতিহাস
কিছু জেনেটিক মিউটেশন (যেমন BRCA জিন)
দীর্ঘদিন হরমোন থেরাপি
নির্দিষ্ট পারিবারিক বা বংশগত কারণ
এই ধরনের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত গাইনোকোলজিস্ট বা অনকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওভারিয়ান ক্যানসার প্রথম দিকে শনাক্ত হলে চিকিৎসার ফল অনেক ভালো হয়। বর্তমানে সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি উপলব্ধ রয়েছে।তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে ধরা পড়ে। সেই কারণে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায় এবং রোগীর দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে আসে। তাই উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বা ওভারিয়ান ক্যানসার নারীদের অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও ঋতুস্রাবে অনিয়ম, পেট ফোলা, তলপেটে ব্যথা, অস্বাভাবিক ওজন পরিবর্তন-সহ একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।













